কলকাতা : গভীর রাতে মমতার বক্তব্যের পালটা দিলেন রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। মুখ্যমন্ত্রীর সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে বললেন রেল সমস্ত প্রকার সাহায্য করছে। তিনি এই কথা জানিয়েছেন টুইট করে ক’টার সময় টুইট করেন তিনি? মমতার রাত সাড়ে ১১.৩০টায় করা মন্তব্যের পালটা রাত ১.১৯ মিনিটে দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

তিনি টুইট করে লেখেন, ‘মৃত নয়জনের পরিবারকে আন্তরিকভাবে সমবেদনা জানাব। রেলের জেনারেল ম্যানেজার সহ একাধিক কর্তা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সব কাজ করা হয়েছে। রাজ্যর সঙ্গে সবরকম সহযোগিতা করা হচ্ছে।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাত প্রায় সাড়ে ১১টা নাগাদ কয়লাঘাটায় পূর্ব রেলের ওই অগ্নিদগ্ধ অফিসের সামনে পৌঁছান। সেখানেই পৌঁছে তিনি ঘটনাস্থল দেখেন, দমকল ও পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার প্রতি এবং মৃতদের প্রতি দুঃখপ্রকাশ করেই তিনি বলেন , ‘ ‘দুর্ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করতে চাই না, তবে রেলের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়নি।’ রেল কর্তা আধিকারিকদের অনুপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ করেন এবং তিনি বিস্মিত সেই কথা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সোমবার সন্ধ্যা, ৬.১০ মিনিটে কয়লাঘাটায় পূর্ব রেলের আগুন লাগে। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের ১০টি ইঞ্জিন। আগুন লেগেছিল বহুতলের ১৩ তলায়। আগুন নেভাতে সহায়তার জন্য আনা হয়েছিল হাইড্রোলিক ল্যাডার। ঘটনার জেরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল স্ট্র্যান্ড রোড।

আগুন নেভানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা উচ্চতা। তাই দলকলের তরফে মই আনা হয়েছিল। প্রাথমিক অবস্থায় কোনও হতাহতের খবর শোনা যায়নি। শোনা গিয়েছিল যে ওই তলায় কেউ আটকেও নেই। কিন্তু যত সময় গড়ায় আগুন তত বাড়তে থাকে। আগুনের লেলিহান সিখা গ্রাস করতে থাকে ওই অফিসের ১৩ তলাকে। অন্য কোনও অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। আগুন লাগা অংশে প্রথমে সহজে পৌঁছনো সম্ভব হয়নি। ১৩ তলায় পৌঁছনোর জন্য আনা হয়েছিল হাইড্রলিক ল্যাডার। নিয়ন্ত্রণে আসেনি আগুন।

ওই বহুতলের আশপাশের বিল্ডিং খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ওই বহুতলার অন্যান্য তলা থেকেও সবাইকে বের করে আনা হয়েছিল। বিপদের আশঙ্কা থেকে ওই এলাকার আশপাশে মানুষকে আসতে দেওয়া হয়নি। যাতে অন্যান্য তলায় আগুন না ছড়িয়ে পড়ে তার জন্য বাইরে থেকে জল দেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। এত কিছুর পরেও ওই বিল্ডিংয়ের উচ্চতার জন্য বহুক্ষণ ওই স্থান পর্যন্ত পৌঁছতেই পারেইনি দমকলকর্মীরা। মনে করা হচ্ছিল ওই তলের ভিতরের সম্পূর্ণ জায়গায় আগুন না ছড়িয়ে পড়ে। কেন ও কীভাবে বহুতলে আগুন লাগল তা অবশ্য এখনও জানা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

এরপর রাত প্রায় এগারোটা নাগাদ জানা যায় সাত জনের মৃত্যুর কথা। সেখানে চার জন দমকলকর্মী, রেলের দুই কর্মীরও প্রাণহানী হয়। এদের মধ্যে একজন ছিলেন আরপিএফ কর্মী ও অন্যজন ছিলেন একজন রেলের পদস্থ কর্তা। বাকি আর একজন কলকাতা পুলিশের এএসআই ছিলেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.