স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : এত কাছে তবু কত দূরে। স্বপ্ন ছিল এভারেস্ট লোৎসে জোড়া শৃঙ্গ জয় করে ফিরবে মেয়েটা। পূরণ হবে ছোট্ট বেলার স্বপ্ন। হল না। ৪৫০ মিটার দূরে ছিল এভারেস্টের চুড়া। সেখান থেকেই ফিরে আসতে হল পিয়ালীকে। ইচ্ছা ছিল আজ রাতেই অভিযান চালাবে কিন্তু পিয়ালীর এজেন্ট টিম সেভেন সামিট স্পষ্ট না করে দিয়েছে। বেশি এগোলে বিপদ ছিল। বাড়তি অক্সিজেন ছাড়াই পাহাড়ে সামিট সম্পূর্ণ করবে ভেবেছিল পিয়ালী। হল না, প্রাণ সংশয় হতে পারত।

অর্থ ছিল না৷ প্রবল ইচ্ছা এবং ক্রাউড ফান্ডিংয়ের সাহায্যে এগিয়ে গিয়েছিল পিয়ালী। হয়তো বছরটা বাঙালি পর্বতারোহীদের জন্য খারাপ। না হলে একের পর এক মৃত্যু সংবাদ। শেষ খারাপ সংবাদ পিয়ালীর শৃঙ্গের ৪৫০ মিটার থেকে ফিরে আসা। চন্দননগরের মেয়ের এক অদ্ভুত স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্নে ঘুরে বেড়াত তেনজিং নোরগে , এডমন্ডরা হিলারিরা। রূঢ় বাস্তব , নিরাপদে ক্যাম্প টু পর্যন্ত নেমে এসেছে পিয়ালী। বাকি পথটা চন্দননগরের দিকে।

আরও পড়ুন : জঙ্গি হামলার দুঃস্বপ্নকে রুকস্যাকে বেঁধে এভারেস্টের পথে বাঙালি মেয়ে

পিয়ালীর ফিরে আসার জন্য দায়ী এভারেস্টের ট্রাফিক জ্যাম। পর্বতারোহী পাহাড়ে লাইন দিয়ে শীর্ষে ওঠার ফলে লম্বা লাইন পড়ে গিয়েছে। ২১ থেকে ২৪ মে পর্যন্ত এভারেস্টে আবহাওয়া পরিষ্কার থাকার পূর্বাভাস ছিল। তাই পর্বতারোহীরাও নিরাপদে পর্বতচূড়ায় ওঠার জন্য ওই সময়টাকেই বেছে নিয়েছেন। আর পথ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আছেন শেরপারা৷ সবমিলিয়ে সংখ্যাটা এই মরসুমে প্রায় ৫০০ র ওপর হয়ে গিয়েছে। সবাই একসঙ্গে এভারেস্টে ওঠার চেষ্টা করছেন লম্বা জ্যাম লেগে গিয়েছে।

আবহাওয়া যতক্ষণ ভালো থাকে, তার মধ্যেই সবাই চূড়ায় উঠতে চান। স্বভাবতই সবারই তাড়া থাকে। কিন্তু পর্বতারোহীদের অভিযানের সঠিক কোনও ব্যবস্থাপনা আজও গড়ে ওঠেনি। সেখান থেকেই এই ট্রাফিক জ্যামের উৎপত্তি । সেই কারণে এভারেস্ট জয় করে ফেরার পথে অনেকেরই অক্সিজেনের একটা ঘাটতি থাকে। তখন যদি ওই ট্রাফিক জ্যামের মধ্যে পড়তে হলে প্রাণ সংশয় হয়।

অভিজ্ঞ পর্বতারোহীরা জানাচ্ছেন, এভারেস্টে ভালো আবহাওয়ায় সাধারণত ২, ৩ ও ৪ নম্বর ক্যাম্প থেকে একত্রে পর্বতারোহীরা এভারেস্টের পথে রওনা দেন। এতেই যাবতীয় জটের সৃষ্টি হয়। বুধবার বেসক্যাম্প থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, চার নম্বর ক্যাম্পের উপরেই প্রায় ২০০ জন ক্লাইম্বার লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। ১৪ ই এপ্রিল শেরপারা এভারেস্ট এর রুট ওপেন করেন। ১৬ ই এপ্রিল দুইদিন আবহাওয়া ভালো থাকায় প্রায় ১৫০ জন সামিট করেছেন।