সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : রসনা তৃপ্তিতে বাঙালি সবার প্রথমে। কিন্তু বাঙালি নাকি খুব কুঁড়ে। এমনটাও বলা হয়। মোবাইল আর রেডিমেডের যুগ তা আরও বেড়েছে। শুরু হয়ে গিয়েছে পিঠে পুলির সময়। এখানেও উঠে আসছে সেই রেডিমেডের যুগ। হাতে তৈরি নয় ডিরেক্ট পাতে তৈরি পিঠে পুলিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য।

আজকাল মিষ্টির দোকান গুলোতেও খুব ভালো ভালো পিঠে পাটিসাপটা পাওয়া যায় । হাতের কাছে পাওয়া যায় বলেই পিঠে তৈরির উৎসাহ ও বাঙালি ক্রমশ হারিয়ে ফেলছে। মা ঠাকুমারা পৌষ সংক্রান্তির দিন যে পিঠে পায়েস তৈরি করবেন ভাবতেন তার জোগাড় চলত দু দিন আগে থেকে । বাড়িতে চাল গুঁড়ো করা হত , ক্ষীর তৈরি করা, নারকেল কুরে তাতে সেই ক্ষীর মিশিয়ে নানা রকম পিঠের পুর তৈরি করা হত, গোটা বাড়ি শীতের নতুন গুড়ের গন্ধে ম ম করত। প্রত্যেকটা জিনিসের মধ্যই তাদের ভালোবাসার ছোঁয়া থাকত।

আগে তো বাড়ি বাড়ি পিঠে খাওয়ার জন্য জমজমাট ব্যাপার হতো। গ্রামের দিকে উঠোন পরিষ্কার করিয়ে রাখা হত সকালবেলা। দুপুরবেলা গোটা উঠোনে আলপনা আঁকতে বসা হতো গৃহকর্ত্রীর নির্দেশ মতো।

ধীরে ধীরে ধানের গোলা, ধানের শীষ, মানুষ, লক্ষী ঠাকুরের পায়ের ছাপ ইত্যাদি। যেন একটা শীতের মিঠে রোদের মিষ্টি গল্প। খাটুনি প্রচুর কিন্তু ঠাকুমার, মা – কাকিমার হাসি মনেই কাজ করতেন।

বিকেল থেকে শুরু হতো রান্নাঘরের একদিকে মাটি দিয়ে লেপা জোড়াউনুনে পিঠে পায়েস তৈরী। মুগপুলি, দুধপুলি, রসপুলি,গোকুলপিঠে, পাটিসাপটা, চুষির পায়েস, চালের পায়েস , আর একটা পিঠে হতো মাটির সরা ঢাকা দিয়ে, সেটা গুড় দিয়ে খেতে হত। বাড়ির ছেলে মেয়েরা অপেক্ষা করত কখন হাতে আসবে পিঠে পুলিরা।

আরেকটা জিনিস ছিল। চুষি। যা গোবিন্দভোগ চালের গুঁড়ো গরম জলে ফুটিয়ে মাখা আটার মত করে নিয়ে তার থেকে হাতের তালুতে রেখে তৈরি করতে হত। সব পিঠে তৈরি হয়ে গেলে এরপর আমাদের পিঠে খাওয়া শুরু হতো। পিঠে তৈরি হলে সেটা শুধু নিজের বাড়ির মানুষদের জন্যই শুধু হতো না , তা যেত প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ট বন্ধুদের বাড়িতেও। আবার তাদের বাড়ি থেকেও পিঠে আসতো বাড়ি বাড়ি। এই দেওয়া নেওয়ার মধ্যেও আনন্দ জড়িয়ে থাকত অনেক। সেই মানুষও নেই, সেই সময়ও হারিয়েছে। মনের মধ্যে রয়ে যায় অসংখ্য সুখস্মৃতি।

এখন পাড়ায় পাড়ায় পিঠে উৎসব হচ্ছে , আর সবাই ভিড় করে সেখান থেকে পিঠে কিনে খাচ্ছে। ব্যস্ততার যুগে বাঙালি বাড়ির বদলে বাইরে থেকেই পিঠে পুলি পাটিসাপটা কিনে নিয়ে আসছে। ভালোবাসা নেই আছে রেডিমেড রসনা তৃপ্তিটুকু।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।