পকেট থেকে প্রধানমন্ত্রী! PINK এখন সব জায়গায়

স্বরলিপি দাশগুপ্ত: বিপ্লবের রঙ লাল। শান্তির রঙ সাদা। শোকের রঙ কালো। আর গোলাপি? মহিলাদের রঙ, নমনীয়তার রঙ, সহনশীলতার রঙ। এসমস্তই এখন মিথ। গোলাপি এখন ‘মহিলা’  থেকে বেরিয়ে রাজনীতিতে, ছবির পর্দায়, মানুষের পকেটে। কালো-সাদার চিরসবুজ খ্যাতিকে বিরতি দিয়ে বিগত কয়েকদিনে গোলাপি-ই স্পটলাইটে। গোলাপি এখন সমৃদ্ধির ও সাহসের রঙ, আবার এই গোলাপিই ভন্ডামির রঙও।

‘পিঙ্ক’-একটা রঙের নাম দিয়ে হয়ে গেল আস্ত একটা সিনেমা। অথচ সিনেমার মধ্যে কোথায় ‘পিঙ্ক’? ঐ যে তিনটে মেয়ে, ওরাই তো ছবিতে ‘পিঙ্ক’। ‘মহিলাদের না মানে হ্যাঁ’-এমন ধারণা নিয়ে যারা বাঁচতেন তাদের গাল এই ছবির চপেটাঘাতে গোলাপি হয়েছে বৈকি। একটা ‘মিষ্টি’ রঙ বুঝিয়েছে মদ্যপ, একা এবং নিজের পছন্দ মত পোষাক পরা নারী মানেই সে ‘অ্যাভেলেবল’ নয়।

তবে এখন গোলাপি রঙ বেশি করে ‘অ্যাভেলেবল’ হলে মন কিন্ত বেশ ভালো থাকে। এই গোলাপি নারী নয়। এই গোলাপি একটা কাগজের টুকরো। এ হল ‘পিঙ্ক নোট’। তবে গুগল করলে দেখতে পাবেন, ‘পিঙ্ক নোট’ পাওয়া যায় গিটারের ২০তম ফ্রেট-এর হাই স্ট্রিং এ। এই নোট বাজলে নাকি ‘অরগ্যাজম’ এর পারদ চড়ে। তবে আমরা যে ‘পিঙ্ক নোট’ এর কথা বলছি সেটির ফলেও উত্তেজনার পারদ লাফ দিয়ে উপরে ওঠে। ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর। সেই রাতে ঝড়ের মত ৫০০ ও হাজারের নোট বাতিলের খবর পেয়েছিল মানুষ। তারপরই আবির্ভাব গোলাপি ২০০০ এর। একে গোলাপি, তার উপর ২০০০! একটা থাকলেই পকেট ভারী। অতএব গোলাপি এখন একাধারে লক্ষ্মী-গণেশ।

এই বছর প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন মোদীর মাথায় গোলাপি রঙের পাগড়ি নিয়ে অনেক জল্পনা তৈরি হয়। মোদীর মাথায় এইপাগড়ি দেখে অনেকি মন্তব্য করেছিলেন যে এই পাগড়িটি তিনি গোলাপি রঙের ২০০০ টাকার নোটকে উৎসর্গ করেছেন।

২০১৬ থেকে চলতে শুরু করেছে ‘পিঙ্ক অটো। শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য এই অটো। তাই ধারা বজায় রেখে গাড়ির রঙ গোলাপি। সঙ্গে আছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অটো চালকের সম্পর্কে যা যা জানা প্রয়োজন তা অটোতে চড়ে বসলেই মিলবে। এক কথায় পিঙ্ক অটো ঠিক দেব দেবীদের বাহনের মত যাত্রীদের রক্ষক সেজে দেশের রাস্তায় বিরাজমান।

শুধু ভারতে না। গোলাপি রঙের মাহাত্ম্য ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। তাই প্রতিবাদের রঙ হিসেবে লাল-কালোর বদলে গোলাপিকেই বেছে নিয়েছিলেন আমেরিকার মানুষ। প্রেসিডেন্টের আসনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বসার পরেই গোলাপি টুপি পরে রাস্তায় নেমেছিলেন মহিলারা। সঙ্গে পুরুষরাও ছিলেন। মহিলাদের উদ্দেশ্য করে ট্রাম্পের একের পর এক কুরুচিকর মন্তব্যকে নিন্দা জানাতেই প্রতিবাদ হয়েছিল। আর সেই ‘গোলাপি’ মানে মহিলাদের রঙ। এই মিথকে কাজে লাগিয়েই সেদিন ‘পিঙ্ক’ হয়েছিল প্রতিবাদের অস্ত্র।