স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: এককালে গাড়ি চালানোর কাজ পুরুষের বলেই মনে করা হত৷ সেই প্রথা বহুদিন আগেই ভেঙে গিয়েছে গণতান্ত্রিক ভারতবর্ষে৷ এখন রাস্তাঘাটে শুধু চার চাকা যান নয়, দু’চাকার যানও চালাতে দেখা যায় মহিলাদের৷ তবে, ব্যক্তিগত প্রয়োজনে গাড়ি চালালেও পেশা হিসাবে সচরাচর গাড়ি চালানোর কাজ বেছে নেন না মহিলারা৷

এবার ক্যাব চালক হয়ে মহিলাদের স্বনির্ভর করার উদ্যোগ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা৷ ‘পিঙ্ক ক্যাব’ নামের এই প্রকল্পের অধীনে মহিলাদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ ও ক্যাব (ট্যাক্সি) কেনার জন্য আর্থিক সহযোগীতা করার ব্যবস্থা করেছে জেলা প্রশাসন৷

সম্প্রতি পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের তরফে সার্কিট ট্যুরিজমে আগ্রহী মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, আগ্রহী মহিলাদের বিনামূল্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাইট মোটর ভেইকেল চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

শুধু প্রশিক্ষণ নয়৷ প্রশিক্ষণের শেষে তাঁদের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘গতিধারা’ প্রকল্পের মাধ্যমে গাড়ি কেনার জন্য লোনের ব্যবস্থাও করে দেওয়া হবে৷ মূলত, ক্যাব চালক হিসাবে মহিলাদের স্বনির্ভর করে তোলার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে জেলা প্রশাসনের তরফে৷

বর্তমানে পূর্ব মেদিনীপুরে মোট দু’টি পর্যটন সার্কিট রয়েছে৷ প্রথমটি হল তমলুক-হলদিয়া সার্কিট৷ এই সার্কিটের মধ্যে রয়েছে ময়নাগড়, গেঁওখালি, মহিষাদল রাজবাড়ি ও তমলুক রাজবাড়ি৷ দ্বিতীয়টি দিঘা-মন্দারমনি-তাজপুর-উদয়পুর সার্কিট৷ যার মধ্যে সমুদ্র সৈকতগুলি সহ দরিয়াপুর লাইট হাউস, দেশপ্রাণ মৎস্য বন্দরের মতো দর্শনীয় স্থানগুলি ঘুরে দেখতে পারেন পর্যটকরা৷

জানা গিয়েছে, ‘পিঙ্ক ক্যাব’ প্রকল্পের অধীনে যে সকল মহিলারা প্রশিক্ষণ নিয়ে সার্কিট ট্যুরিজম চালক হবেন, তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট পোষাকের ব্যবস্থা করা হবে। গাড়িগুলিতে জেলার বিভিন্ন পর্যটন স্থানের বিবরণ সহ বুকলেট থাকবে৷ এ ছাড়া, গাড়ির mp3 প্লেয়ারে জেলার ভ্রমণ স্থানগুলির বর্ণনা সম্বলিত অডিও-র ব্যবস্থাও থাকবে বলে জানা গিয়েছে।

বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ নিয়ে সার্কিট ট্যুরিজমে ক্যাব চালক হতে আগ্রহী মহিলাদের জেলার ডিএম অফিস এবং এসডিও অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। এ ছাড়া, অনলাইনেও আবেদনপত্র ডাউনলোড করতে পারবেন ইচ্ছুক মহিলারা৷ আবেদনপত্র ডাউনলোড করার পর তা পূরণ করে ব্লক ডেভলপমেন্ট অফিস, মহকুমা শাসকের অফিস বা জেলা প্রশাসনিক অফিসে জমা করতে হবে। এই দফতরগুলি থেকেও পাওয়া যাবে আবেদন পত্র৷

ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পে সামিল হয়েছেন জেলার অনেক মহিলা৷ যেমন, কাঁথির ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৌমিতা মন্ডল৷ বর্তমানে স্নাতক স্তরের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী মৌমিতা ‘পিঙ্ক ক্যাব’ প্রকল্পে যোগ দিতে চান৷ বুধবার সেই আবেদনপত্র কাঁথি বিডিও অফিসের আধিকারিকদের হাতে তুলে দেন মৌমিতা৷