নয়াদিল্লি : গত সোমবার মাঝ আকাশে আচমকা হারিয়ে গেল বায়ুসেনা চপার। তিনদিন ধরে সার্চ অপারেশন চালিয়েও মিলল না হদিশ। আর এই চপারেই ছিলেন পাইলট আশীষ তানোয়ার। আর দুর্ভাগ্যের বিষয়, সেদিন বিমান ওড়ার সময় এটিসি তে দায়িত্বে ছিলেন তাঁর স্ত্রী সন্ধ্যা।

এয়ার ফোর্সের চাকরি করেন তানয়ার দম্পতি। এয়ার ট্রাফিক সিগন্যালের দায়িত্বে থাকেন সন্ধ্যা আর বিমান উড়িয়ে নিয়ে যান আশীষ। কিন্তু এটাই বোধ হয় নিয়তি। সেই সন্ধ্যা যখন এটিসি তে, তখনই হঠাৎ এয়ার ট্রাফিকের সঙ্গে সব যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে গেল আশীষের বিমানের। তারপর ৭২ ঘণ্টা কেটে গেলেও মিলল না কোনও খোঁজ।

জানা গিয়েছে, টেক অফের সময় ডিউটিতেই ছিলেন সন্ধ্যা। পাইলট স্বামীকে তিনিই ওড়ার সবুজ সঙ্কেত দেন। ওড়ার আধ-ঘণ্টার মধ্যেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তিনিই প্রথম টের পান। দুপুর তখন ১টা। এর ঠিক এক ঘণ্টা পরই বাড়িতে খবর দেন সন্ধ্যা। পাইলট আশীষের বাবা সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যান আসমে এয়ার ফোর্স কতৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে। হরিয়ানার পলবল জেলার দীঘোট গ্রামের বাসিন্দা ২৯ বছরের অনীশ বি.টেক করার পর ২০১৩ সালে বায়ুসেনায় যোগ দেন।

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি বায়ুসেনা অফিসার সন্ধ্যাকে বিয়ে করেন। ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট আশীষ তনোয়ারের মা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে আর্জি জানান, নিখোঁজ বিমান ও তার সওয়ারীদের যত দ্রুত সম্ভব বের করতে সর্বান্তকরণ চেষ্টা করতে। আশীষ তানোয়ারের বাবা রধেলাল ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীতে। আর সন্তানরাও অনুপ্রাণিত হয়ে সেই পেশাই বেছে নেন। আশীষ তানয়ারের দিদিও একজন স্কোয়াড্রন লিডার।

গত সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ, ৮ জন বায়ুসেনা কর্মী সহ ১৩ জন যাত্রী নিয়ে অসমের জোরহাট থেকে চিন-সীমান্ত লাগোয়া মেনচুকা অ্যাডভান্সড ল্যান্ডিং গ্রাউন্ডের উদ্দেশে রওনা দেয় ‘অ্যান্টোনভ এএন-৩২’ বিমানটি। ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই এটিসি-র সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বায়ুসেনার তরফে জানানো হয়েছে, নিখোঁজ বিমান ও তার সওয়ারীদের খোঁজে দিনরাত তল্লাশি-অভিযান চলছে।