স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বিশ্ববাংলা লোগো ব্যবহার করে কত টাকা মুনাফা করেছে রাজ্য সরকার৷ এই প্রশ্ন তুলে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে৷ শুক্রবার ছিল সেই মামলার শুনানি৷
শুনানিতে রাজ্যের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মামলাকারী সিদ্ধার্থ দাসের আইনজীবী মীনাক্ষী অরোরা ও আইনজীবী পার্থ ঘোষ।

এদিন ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষন করে তাঁরা অভিযোগ করেন, একই লোগো মালিকানার জন্য দুজন আলাদা আলাদা করে আবেদন জানিয়েছে৷

তাঁরা বলেন ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ট্রেডমার্ক রেজিষ্ট্রেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার কাছে বিশ্ব বাংলার লোগোর মালিকানা পেতে আবেদন জানান। ঠিকই একই ইস্যু নিয়ে ২০১৪ সালে রাজ্য সরকার একই লোগোর জন্য ট্রেডমার্ক রেজিষ্ট্রেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার কাছে আবেদন জানায়৷

২০১৪ সালের শেষের দিকে রাজ্যের আবেদন খারিজ করে দেয় ট্রেডমার্ক রেজিষ্ট্রেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া। ২০১৭ সালে জুন মাসে বিশ্ব বাংলার লোগোর মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ট্রেডমার্ক রেজিষ্ট্রেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার কাছে আগের আবেদনটি প্রত্যাহার করতে নতুন করে আবেদন জানান।

২০১৮ সালের ৭ই জুন ট্রেডমার্ক রেজিষ্ট্রেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া রাজ্য সরকারকে বিশ্ব বাংলার লোগোর মালিকানা দেয়। এখানেই প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবী৷ তাঁর বক্তব্য ২০১৩ সাল থেকে পাঁচ বছর রাজ্য সরকার প্রচুর জায়গাতে এই লোগো ব্যবহার করেছে। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচারে বেশি ব্যবহার করা হয়েছিল বিশ্ব বাংলা লোগো৷ এই লোগো নিয়ে রাজ্যের কোটি কোটি টাকা ব্যায় হয়েছে৷
তাহলে এই পাঁচ বছরে মুনাফার টাকা রাজ্য সরকারের ঘরে না ঢুকে সেই টাকা কোথায় গেল?

রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল এর জবাবে বলেন এই মামলাটি কোনওভাবেই জনস্বার্থ মামলার মধ্যে পরে না৷ এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রনোদিত মামলা। আগামী পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে এই ইস্যুতে হলফনামা তলব করেছেন প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।