নয়াদিল্লি : গায়ে গোলাপি দাগ ছিল। পায়ে ছিল আংটির মত জিনিস। তাতে ছিল কিছু নম্বর, যা সংকেত বলেই মনে করেছিলেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। ২৫শে মে ভারত পাক সীমান্ত পেরিয়ে উড়ে এসেছিল পায়রাটি। তাকে পাক চর সন্দেহে বাজেয়াপ্ত করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে পরে জানা যায় ওই পায়রাটি পাকিস্তানের এক সাধারণ নাগরিকের পোষা পায়রা। অজান্তেই উড়ে চলে আসে ভারতের সীমান্তে।

তার কাছ থেকে সন্দেহজনক কিছু না পাওয়া যাওয়ায় বৃহস্পতিবার ছেড়ে দেওয়া হল তাকে। এমনই তথ্য দিয়েছেন জম্মু কাশ্মীর পুলিশের শীর্ষ আধিকারিক শৈলেন্দ্র মিশ্র। সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যে জানা গিয়েছে যেখান থেকে পায়রাটিকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল, সেখান থেকেই উড়িয়ে দেওয়া হয় তাকে। যাতে পথ চিনে সে ফিরতে পারে।

ওই পায়রাটির মালিক পাকিস্তানি নাগরিক হাবিবুল্লাহ রয়টার্সকে জানান, পাখিটির সঙ্গে চরবৃত্তির কোনও সম্পর্ক নেই। নিতান্তই নিরীহ এই প্রাণীটি। সেইসঙ্গে ভারতের কাছে আবেদন করেন, যাতে পায়রাটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে পায়রাটি তার মালিকের কাছে ফিরতে পেরেছে কিনা, তা জানা যায়নি। ধরা পড়ার পরে দেখা গিয়েছিল, পায়রাটির পায়ে সুতো দিয়ে বাঁধা কিছু সংকেত। যার ভাষা বোঝা যায়নি।

পায়রাটিকে ধরে ফেলে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন জম্মু কাশ্মীরের মনইয়ারি গ্রামের হিরানগর সেক্টরের বাসিন্দারা। পুলিশ সূত্রে খবর ছিল এই পায়রাটি পাকিস্তানের দিক থেকে উড়ে এসেছে। পাক সেনা দ্বারা সেটি প্রশিক্ষিত বলেও মনে করা হচ্ছিল। তবে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন হাবিবুল্লাহ। পাক সীমান্তের কাছেই তাঁর বাড়ি। সেখান থেকেই পায়রাটি উড়ে আসে।

হাবিবুল্লাহ জানিয়েছেন, তিনি কিছুদিন আগেই একটি পায়রা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। পায়রাটির পায়ে আংটি নিজের মোবাইল নম্বর খোদাই করে বেঁধে দেন, যাতে হারিয়ে না যায়। এর মধ্যে পাক চরবৃত্তির কোনও ব্যাপার নেই। সোমবার জম্মু কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলায় একটি পায়রাকে সন্দেহজনকভাবে উড়তে দেখা যায়। সীমান্তের কাছ দিয়েই উড়ছিল পায়রাটি।

সেটিকে ধরে ফেলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কাঠুয়া জেলার পুলিশ সুপার শৈলেন্দ্র মিশ্র জানিয়ে ছিলেন, পায়রাটির পায়ে একটি আংটি জাতীয় বস্তু ছিল। সেখানেই বেশ কয়েকটি নম্বর লেখা ছিল। নম্বরগুলির আসল অর্থ কি, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV