নয়াদিল্লিঃ চলতি মাসের শুরুতে একটু একটু করে লকডাউন শিথিল হতে শুরু করে। লকডাউন শেষে শুরু হয় আনলক ১। কিন্তু সংক্রমণ যেভাবে ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে, তাতে রীতিমত আতঙ্ক বাড়ছে। বিশেষত কয়েকটি রাজ্যে সংক্রমণের চেহারা ভয়ঙ্কর।

এমনকি, দিল্লিতে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনার পরই তড়িঘড়ি শনিবার বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অমিত শাহ সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আমলারা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

আর এই বৈঠক ঘিরেই জল্পনা উঠতে থাকে তাহলে কি লকডাউন নিয়ে বড়সড় কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে মোদী সরকার। আর এই জল্পনার মধ্যেই আগামী ১৬ এবং ১৭ জুন দেশের সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা মোদীর।

একদিকে দফায় দফায় মোদী সরকারের বৈঠক আর অন্যদিকে ফের দেশের সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক। জল্পনা আরও জোরদার হতে থাকে যে, হয়তো মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পরেই লকডাউনের নিয়ম নিয়ে কড়াকড়ি জারি করা হতে পারে। আর তা ১৮ তারিখ ঘোষণা করা হতে পারে জল্পনা তৈরি হয়।

যদিও আজ রবিবার সমস্ত জল্পনার জল ঢেলে দিয়েছে পিআইবি ফ্যাক্ট চেক। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, লকডাউন বাড়ানো কিংবা আরও কড়া নিয়ম জারি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। অন্তত এখনও পর্যন্ত কিছু হয়নি বলে পিআইবির তরফে জানানো হয়েছে। এমনকি হোয়াটস অ্যাপের একটি ম্যাসেজ ভাইরাল হয়। যেখানে বলা হয় যে, আগামী ১৮ তারিখ থেকে সম্পূর্ণ লকডাউন হচ্ছে দিল্লি।

সেটিও সম্পূর্ণ ফেক বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে পিআইবির তরফে। প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন আগেই সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল একটি স্ক্রিনশট। যেখানে দাবি করা হয়েছে যে, আগামী ১৫ জুনের পরে সম্পূর্ণ লক ডাউনের ইঙ্গিত রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দফতরের তরফে। তার সঙ্গে এও জানানো হয়েছিল বন্ধ রাখা হবে সব ধরনের পরিবহণ ব্যবস্থাও। তবে সম্প্রতি জানানো হয়েছে ওই স্ক্রিনশটটি ভুয়ো।

এমনকি, সোশ্যাল মিডিয়াতে লক ডাউন নিয়ে যে সংবাদ ছড়িয়েছে সেটাও সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি টুইটার হ্যান্ডেল পিআইবি ফ্যাক্ট চেকের তরফে জানানো হয়েছে ১৫ জুনের পরে লক ডাউন সংক্রান্ত যে সংবাদ সোশ্যাল মিডিয়াতে ঘুরছে টা মিথ্যে। সাধারণ মানুষ যাতে এই ধরনের সংবাদ বিশ্বাস না করেন তাও জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ কয়েক দিন ধরে দেশ জুড়ে লক ডাউন চলার পরে ধীরে ধীরে কেন্দ্রের তরফে আনলকের প্রাথমিক পর্যায় শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে শুরু হয়েছে পরিবহণ ব্যবস্থা। কর্মীরা নিজেদের কাজেও যোগ দিচ্ছেন। সেখানে দাঁড়িয়ে এই অবস্থাতে যাতে মানুষজন ভুয়ো খবরে বিশ্বাস না করেন এবং যাতে তা একবার যাচাই করে নেন তাও জানানো হয়েছে।

ভুয়ো খবরে বিশ্বাস নয়। সুস্থ থাকুন-পাশে থাকুন।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।