স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: ইচ্ছে থাকলে সব হয়৷ কথাটা প্রবাদেই আছে৷ তা প্রমাণ করে দিল মহিষাদলের কিংশুক ঘোষ৷ প্রতিবন্ধকতা মানেই যে সমাজের আর পাঁচটা মানুষের থেকে নিজেকে পিছিয়ে রাখা তা কিন্তু নয়। প্রতিবন্ধকতা মানে নতুন উদ্যমে নিজেকে অন্যভাবে গড়ে তোলা৷ সেরাদের মাঝে নিজেকে তুলে ধরার প্রচেষ্টা। আর এই প্রচেষ্টার এক অন্যতম উদাহরণ হল এই কিংশুক ঘোষ।

জন্ম থেকেই দুই পা অচল। হাতেও তেমনভাবে আর পাঁচটা মানুষের মতো বল পায় না সে। তার মধ্যে এখন জীবন যুদ্ধের লড়াইয়ে বছর সতেরোর কিংশুক। প্রতিবন্ধকতাকে সঙ্গে নিয়ে আর পাঁচটা মানুষের মতো নিজেকে গড়ে তোলার লড়াই আছে সে৷ তাই এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেছে কিংশুক৷

জন্ম থেকে পঞ্চইন্দ্রিয় যেমন আর পাঁচটা মানুষের শারীরিক অঙ্গ হিসেবে পরিচিত৷ তেমনই প্রতিবন্ধকতা হল কিংশুকের জীবনের অন্যতম এক অঙ্গ। দিন যায় দিন আসে বছরের বদল ঘটে কিন্তু কোথাও যেন বদল ঘটে না কিংশুকের এমন পরিস্থিতির। এর উপরেও নিজের মনের জোরে এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সে। কিংশুক মহিষাদল রাজ হাইস্কুল থেকে এবছর মাধ্যমিক দিচ্ছে।

ছোটো থেকেই মা-বাবা ও শিক্ষকদের প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে নিজেকে পরীক্ষার্থী হিসেবে গড়ে তুলেছে কিংশুক। এরপর এখন সে জীবনের এক অন্যতম বড় পরীক্ষার মুখোমুখি। ছেলেকে সঠিক জ্ঞানের আলোর সংস্পর্শে আনতে কখনও পিছু পা হয়নি তার বাবা মা৷ তাই ছোটবেলায় বাড়ির পাশে গয়েশ্বরী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভরতি করেন কিংশুকের বাবা রঞ্জিত ঘোষ ও মা ইন্দ্রাণী ঘোষ।

এরপর থেকেই প্রতিবন্ধকতাকে মন থেকে দুরে সরিয়ে ধীরে ধীরে পড়াশোনার মধ্যে প্রবেশ কিংশুকের। প্রাথমিক স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কিংশুক নিজের মনের জোরে প্রবেশ করে হাইস্কুলের দরবারে। ঘড়িতে সকাল ১০টা বাজা মানেই মহিষাদলের প্রফেসার পাড়ার গলিতে বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা যাবে স্কুল মুখী কিংশুককে। আর এই কিংশুকই এখন জীবনের বড় পরীক্ষার মুখে৷

তার প্রথমে মাধ্যমিক পরীক্ষার সিট পড়ে গেঁওখালি হাইস্কুলে। কিন্তু এরপর পর্ষদ কর্তৃপক্ষ কিংশুকের প্রতিবন্ধকতার কথা জানতে পেরে সিট পরিবর্তন করে কিংশুকের বাড়ি সংলগ্ন মহিষাদল গয়েশ্বরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে স্থানান্তরিত করে। পর্ষদ কর্তৃপক্ষের এমন মানবিকতায় এখন খুশি কিংশুকের বাবা ও মা উভয়েই। তাদের কথায় স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অন্তিম প্রচেষ্টার জেরেই কিংশুক আজ এমন বড় পরীক্ষার সম্মুখীন হতে পেরেছে।

কিংশুকের স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা জানান, মনের জোরকে সঙ্গী করেই কিংশুক আজ এমন বড় পরীক্ষা দিতে পেরেছে। আশীর্বাদ করি ও জীবনে আরও বড় হোক। বুধবার ইংরেজি পরীক্ষা দেওয়ার পর কিংশুককে তার উপলব্ধির কথা জানতে চাওয়া হলে আধোআধোভাবে বলে,“আমি মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে পেরে খুব খুশি। আমি ভালো করে পড়াশোনা করতে চাই।’’ সবমিলিয়ে এখন জীবন যুদ্ধের মুখোমুখি কিংশুক। জীবনে আরও বড়ো হোক এমনটাই চান তার পরিবার, শিক্ষক শিক্ষিকা সহ সমগ্র মহিষাদলবাসী।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।