তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: বাংলার আকাশে বাতাসে পুজো পুজো গন্ধ। ভোরের শিউলী, আকাশে পেঁজা তুলো মেঘ, মাঠে ঘাটে বাতাসে দোলা লাগানো কাশফুল জানান দিচ্ছে ‘মা’ আসছেন। কিন্তু এতসবেরর পরেও প্রতিদিন সংবাদমাধ্যমের পাতায় চোখ রাখলে নজরে আসছে অসংখ্য নারী নির্যাতনের খবর। ঠিক সেই মুহূর্তে নারী শক্তির বিকাশে অভিনব উদ্যোগ নিল বাঁকুড়ার একটি ফটোগ্রাফি সংস্থা।

গত কয়েক দিন ধরে শহর সংলগ্ন দ্বারকেশ্বর নদীতে কাশ ফুলের জঙ্গলে হয়ে গেল ‘দুর্গা সাজো প্রতিযোগিতা’। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেন বাঁকুড়ার কুড়ি জন মহিলা, কুড়ি জন বিউটিশিয়ান ও কুড়ি জন পেশাদার ফটোগ্রাফার। কুড়ি জন মহিলাকে দেবী দুর্গার সাজে সাজানোর কাজ করলেন কুড়িটি বিউটি পার্লারের কর্মীরা। আর সবশেষে সাজানোর পর কুড়িজন পেশাদার ফটোগ্রাফার দ্বারকেশ্বরের চরে কাশ ফুলের জঙ্গল আর জলের পাশে বিভিন্ন মুহূর্তের সেই ছবি ক্যামেরাবন্দী করে রাখলেন। অভিনব এই উদ্যোগকে ঘিরে সকলের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

আরও পড়ুন : হিন্দুদের জন্য পশ্চিমবঙ্গ মোটেই নিরাপদ নয় : বিশ্বহিন্দু পরিষদ

শহরের কুড়িটি বিউটি পার্লারের কর্মীরা দেবী দুর্গার বিভিন্ন সাজে তাদের মডেলকে নিজেদের মনের মতো করে সাজিয়েছেন। এই পরিকল্পনা যার মস্তিস্কপ্রসূত সেই তাপস দত্ত বলেন, একদিকে মা দুর্গা একজন নারী। তাঁকে দেবী দুর্গা বলে পুজো করা হচ্ছে। অন্যদিকে সেই নারীই প্রতিদিন সমাজের বুকে নানাভাবে লাঞ্ছনার শিকার। এতসবেরও পরেও মানতে হয় অনেক জায়গায় পুরুষের চেয়ে নারী অনেক এগিয়ে। পুরুষের সঙ্গে সমানভাবে সর্বত্র পাল্লা দিচ্ছে নারীরা, সেই বার্তাই আমরা সমাজে ছড়িয়ে দিতে চাই।

অংশগ্রহণকারী চৈতালী বিশ্বাস বলেন, নারী কোন দিক থেকেই পিছিয়ে নেই। কিন্তু নারী পিছিয়ে রয়েছে কিছু মানুষের মানসিকতায়৷ বাড়িতে রান্নাবান্না করে, সন্তানকে সামলে বাইরের কাজও করছেন একজন নারী।

আরও পড়ুন : নয়া উদ্য়োগ, পুজো মন্ডপে থাকবে ভোটার তালিকা সংশোধনী স্টল

প্রিয়াঙ্কা রজক বলেন, আমরা নারীরা পিছিয়ে নেই কোন দিক থেকেই। দশভূজা দুর্গার মতো সবাই এগিয়ে যাও। নারীরা এখন যেমন বিমান চালাচ্ছে, তেমনি চাঁদেও যাচ্ছে। এই বার্তাই তুলে ধরতে চেয়েছি।

বিউটিশিয়ান পাপিয়া চৌধুরী বলেন, আমরা পাঁচজন মিলে দুর্গাকে সাজিয়েছি। একজন মহিলা একাই একশো। সে চাইলে অনেক কিছু করতে পারে। এখন আর মেয়েরা অসহায়, দুর্বল নয়। এই ভাবনা নিয়ে যারা বসে আছেন তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ঘরে বাইরে সব সামলে এখন মেয়েরা চাঁদেও যাচ্ছে। নারী এখন সর্বশক্তির অধিকারিণী এই বার্তাই তারা তাদের কাজের মাধ্যমে দিতে চাইছেন বলে তিনি জানান। প্রতিযোগিতা শেষে সফল প্রতিযোগী, বিউটিশিয়ান ও ক্যামেরাম্যানকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।