ম্যানিলা ও ঢাকা: দুনিয়া জুড়ে সাড়া পড়ে গিয়েছিল৷ সাম্প্রতিক সময়ে সব থেকে বড় সাইবার অপরাধ ঘটনায় চুরি হয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিলিয়ন ডলার৷ মার্কিন মুলুক থেকে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল সেই অর্থ৷ অবশেষে সেই মামলার অন্যতম মায়া সান্তোস দেগিতো জেলেই গেলেন৷ তিনি ফিলিপাইনসের রিজল কমার্শিয়াল ব‌্যাংক কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) প্রাক্তন কর্মকর্তা৷

ফিলিপাইনসের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, আদালত মায়া দেগিতোকে দোষী সাব্যস্ত করেছে৷ তার কারাবাসের মেয়াদ হয়েছে ৩২ থেকে ৫৬ বছর৷ একইসঙ্গে ১০ কোটি ৯০ লক্ষ মার্কিন ডলার জরিমানা ধার্য করা হয়েছে৷ এই সংবাদ আসতেই ঢাকায় শোরগোল পড়ে যায়৷ বাংলাদেশের ইতিহাসে তো বটেই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এতবড় অঙ্কের সাইবার ক্রাইম আর হয়নি৷

কী সেই ঘটনা ?
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে সুইফট মেসেজিং সিস্টেমের মাধ্যমে ৩৫টি ভুয়ো বার্তা পাঠিয়ে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশের এক বিলিয়ন ডলার সরিয়ে ফেলার চেষ্টা হয়। এর মধ্যে পাঁচটি মেসেজে ৮ কোটি ১০ লক্ষ ডলার চলে যায় ফিলিপাইনসের আরসিবিসিতে। সেখানকার একসময়ের কর্মকর্তা ছিলেন মায়া৷ শ্রীলংকায় পাঠানো হয়েছিল ২ কোটি ডলার। ঘটনা জানাজানি হতেই প্রবল আলোড়িত হয় আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও বাণিজ্য মহল৷

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ উদ্ধারে তদন্ত শুরু হয়৷ শ্রীলংকায় পাঠানো অর্থ ওই অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া শেষ পর্যন্ত আটকানো গেলেও ফিলিপাইনসের ব্যাংকে যাওয়া অর্থের বেশিরভাগই ক্যাসিনোর জুয়ো খেলায় উড়ে গিয়েছে৷

ফিলিপাইনসের আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, টানা এক দশকের বেশি সময় ধরে থাকা ব্যাংকে কাজের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করেই মায়া এই কর্মকাণ্ডে জড়িত৷ যদিও তিনি সব অস্বীকার করেন৷ এদিকে আদালত জানিয়েছে, মায়া যে কথা বলেছেন, তা বড় ধরনের মিথ্যে৷