সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : ভানুমতির খেল কথাটি বাংলায় অতি পরিচিত। অনেকেই শুনেছেন, যারা চোখে দেখেননি তারা অন্তত টিভি ধারাবাহিকেও দেখেছেন। কিন্তু তিন মিনিটে সাগর পার ওলটপালট করে দেওয়া প্রকৃতির খেলা দেখেছেন? তিন মিনিটের এই ভয়ঙ্কর লীলাখেলা দেখাতে বঙ্গোপসাগরে প্রস্তুত সাত নম্বর ঘূর্ণিঝড়। নিয়ে হাজির দুর্ভাগ্যও। দুর্ভাগ্য শীতের জন্য, দুর্ভাগ্য দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির জন্যেও। বার্তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে থাই ঝড় ফেথাই। এমনটাই জানাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

ফল, শীতের ভরা বাজারে রাজ্য জুড়ে বৃষ্টি। পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত জেলাতেই এর প্রভাব পড়বে। উপকূলবর্তী এলাকায় বেশি প্রভাব পড়বে। তবে ঝড়ের প্রভাবে আবারও লণ্ডভণ্ড হতে পারে দক্ষিণ ভারতের উপকূলবর্তী অঞ্চল। আবহবিদরা জানাচ্ছেন ক্রান্তীয় এই ঝড়গুলি সমুদ্রের উপর টানা তিন মিনিট ধরে চলে। এর নূন্যতম গতিবেগ হয় ৭০ কিলোমিটার প্রতিঘণ্টা। পরে সেটি ১৫০ কিলোমিটার প্রতিঘন্টা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। থাই ঝড় ফেথাইয়ের ক্ষেত্রেও তা অন্যথা হবে না।

ফেথাই নামক সাইক্লোনের জেরে পশ্চিমবঙ্গে মাঝ ডিসেম্বরে বৃষ্টি নামতে পারে বলে জানাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। রাজ্যের সমস্ত জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। তবে উপকূলবর্তী এলাকায় বেশি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে। ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা দক্ষিণ ভারতের সমুদ্রতট। মাত্র তিন মিনিটেই সমস্ত উজাড় করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে এই ক্রান্তীয় ঝড়গুলি।

সমতলে এসে শক্তিক্ষয় করলেও ততক্ষনে মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যায়। যেমন হয়েছিল সাগর , মেকুনু, লুবন, দায়ে, তিতলি, গাজার ক্ষেত্রে। ফেথাইও তেমন শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই সেটি আছড়ে পরার জন্য কৌণিক আকৃতি ধারন করেছে। এই কোনের শেষ অংশ অর্থাৎ লেজ দিয়েই সে ঝাপটা মারবে।

আবহবিদরা জানাচ্ছেন, ডিসেম্বর পর্যন্ত সবসময়েই সাগরে সাইক্লোন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে অন্যন্য বছরে এতগুলি সাধারণত হয় না। এই নিয়ে সাত নম্বর ঝড় আছড়ে পড়তে চলেছে সমুদ্রের উপর। শেষ এমন হয়েছিল ৩৩ বছর আগে, ১৯৮৫ সালে। ফেথাই শব্দটি যদি ভাঙা যায় তাহলে ফেট এবং থাই। এবার ইংরেজি শব্দ ফেট, এর অর্থ ভাগ্য। থাই অর্থাৎ থাইল্যান্ড। অর্থাৎ থাইল্যান্ডের নামকরন করা যে ঝড় দক্ষিণভারতের উপকূলকে লণ্ডভণ্ড করতে চলেছে তা আরও দুর্ভাগ্য ডেকে আনতে চলেছে।

আবহবিদরা জানাছেন, সম্ভবত এটাই চলতি বছরের শেষ সাইক্লোন, যা তছনছ করতে শক্তি বাড়িয়ে নিয়েছে। এই মুহূর্তে ঝড়টি নিম্নচাপে পরিণত হয়ে রয়েছে। ১৪ তারিখ বিকেল পর্যন্ত এর অবস্থান ছিল দক্ষিণ পূর্ব বঙ্গোপসাগরে যা শ্রীলঙ্কার ত্রিকোণমালি থেকে ৬৭০ কিলোমিটার পূর্বে, তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ের ৯৩০ কিলোমিটার পূর্ব এবং দক্ষিণ পূর্বে এবং অন্ধ্রের মছলিপটনমের ১০৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে।

আজ ১৫ ডিসেম্বর সেটি সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে। এর পরবর্তী ৩৬ ঘণ্টায় অর্থাৎ রবিবার এটি আরও মারাত্মক ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে। এরপর ১৭ তারিখ অর্থাৎ সোমবার সেটি উত্তর এবং উত্তর পশ্চিমের দিকে এগিয়ে যাবে। অন্ধ্র , ওঙ্গলে এবং দক্ষিণ ভারতের কাকিনাড়ার দিকে। ফল লণ্ডভণ্ড হতে চলেছে দক্ষিণ ভারতের উপকূল।

দিঘায় উত্তাল সমুদ্র। কলকাতাসহ রাজ্যের আকাশ মেঘলা এবং হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি। ঝড়ের পূর্ববর্তী প্রভাবের জেরে গত তিন দিনে কলকাতার ঠাণ্ডা এমনিতেই কমেছে। ১৯ তারিখ পর্যন্ত বাতাসের শীতভাব একেবারেই গায়েব হতে পারে। স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া থাকতে পারে বলে জানাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

গত এক সপ্তাহের মধ্যে কলকাতার তাপমাত্রা ১৩ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঝড়ের আগাম বার্তায় আগামী কয়েকদিন ১৭ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছে তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ