শুভেন্দু ভট্টাচার্য, কোচবিহার: জ্বালানি তেল সাশ্রয় করে মাসে অন্তত ৪৭ লক্ষ টাকা খরচ কমানোর পরিকল্পনা করেছে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা (এনবিএসটিসি)৷ সেই লক্ষ্যে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের অধীন পেট্রোলিয়াম কনজারভেশন রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের (পিসিআরএ) সঙ্গে তারা একটি মেমোরান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং বা মউতে আবদ্ধ হল। শুক্রবার কোচবিহারে এনবিএসটিসি-র সদর কার্যালয়ে এই মউ স্বাক্ষরিত হয়। উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন নিগমের চেয়ারম্যান মিহির গোস্বামী, সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর সুবল রায়, পেট্রোলিয়াম কনজারভেশন রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের ডাইরেক্টর তথা রিজিওনাল কো-অর্ডিনেটর পিকে রায়চৌধুরী প্রমুখ।

এদিন সংস্থার চেয়ারম্যান মিহির গোস্বামী বলেন, কীভাবে জ্বালানি তেলের খরচ বাঁচানো যায় সেই বিষয়ে রাষ্ট্রীয় পরিবহণের বাসচালকদেরও প্রশিক্ষণ দেবে পেট্রোলিয়াম কনজারভেশন রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন। মিহিরবাবুর দাবি, হিসাব কষে দেখা গিয়েছে প্রতি লিটারে ০.৩০ কিমি বেশি গাড়ি চালাতে পারলে মাসে সব মিলিয়ে ৪৭ লক্ষ টাকা উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণের সাশ্রয় হবে। সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর সুবল রায় জানান, এখন প্রতি মাসে ১১ লক্ষ লিটার তেল প্রয়োজন হয় সংস্থার৷ যার জন্য খরচ হয় প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা। এই অবস্থায় জ্বালানি বাঁচিয়ে খরচ সাশ্রয় করা গেলে তাতে সামগ্রিকভাবে সংস্থারই উপকার৷

মউ স্বাক্ষরের পর পিসিআরএ-র ডিরেক্টর ও রিজিওনাল কো-অর্ডিনেটর পিকে রায়চৌধুরী বলেন, গাড়ির হাল এবং সেইসঙ্গে কিছু বাসচালকের অসচেতনতা ইত্যাদি নানা কারণেই অহেতুক জ্বালানি তেলের খরচ বেশি হয়৷ এখন এই বিষয়ে আমরাই চালকদের পরামর্শ দেব, যাতে তাঁরা নিজেরাই জ্বালানি বাঁচাতে উদ্যোগী হতে পারেন। তিনিও জোর দিয়ে বলেন, জ্বালানি বাঁচালে শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থাই বাঁচবে না, পরিবেশও বাঁচবে, সেইসঙ্গে দেশ আর্থিকভাবে মজবুত হবে। খানিকটা ধান ভানতে শিবের গীতের মতো শোনালেও এই প্রসঙ্গেই পিসিআরএ-র কর্তা জানান, এখনও চাহিদার কারণে প্রায় ৭৫% অপরিশোধিত তেল ভারতকে বিদেশ থেকে কিনতে হয়।