স্টাফ রিপোর্টার , কলকাতা : দশম দিনেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বেড়ে গেল পেট্রোল, ডিজেলের দাম। লকডাউনের জেরে টানা ৮২ দিন তেলের দাম এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকার পর আচমকা তা যেন বেড়েই চলেছে। মঙ্গলবার কলকাতায় পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ৭৮.৫৫ টাকা। সোমবার দাম ছিল ৭৮.১০ টাকা। আজ তা বাড়ল আরও ৪৫ পয়সা। ডিজেলের দামও ৭০.৩৩ টাকা থেকে ৫১ পয়সা বেড়ে লিটার প্রতি হয়েছে ৭০.৮৪ টাকা। সবমিলিয়ে ৭৩.৩০ টাকা থেকে ধাপে ধাপে কলকাতায় পেট্রোলের দাম বাড়ল ৫.২৫ টাকা।

শুক্রবারের তুলনায় শনিবার দাম বাড়ে ৫৭ পয়সা। ৭৬.৪৮ থেকে দাম বেড়ে হয় ৭৭.০৫ টাকা। ৭৩ থেকে আজ রবিবার প্রায় ৭৮এ পৌঁছেছে পেট্রোল। এই কয়েকদিন আগে ৭৩.৩০ ছিল। লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়ল গত সাত দিন ধরে। শুক্রবার আরও ৫৪ পয়সা বেড়ে কলকাতায় বৃহস্পতিবার ৫৮ পয়সা বেড়ে কলকাতায় পেট্রোলের দাম হয়েছিল ৭৫.৯৪ টাকা টাকা। আট দিনের ফারাকে দাম বাড়ল ৪.৩২ টাকা। মানুষ নাজেহাল তারমধ্যেই দ্রুত গতিতে বাড়ছে পেট্রোলের দাম। এমনটাই জানা যাচ্ছে বাজার সূত্রে। বুধবার মঙ্গলবারের তুলনায় ৩৮ পয়সা বেড়ে কলকাতায় পেট্রোলের দাম হয়েছিল ৭৫.৩৬ টাকা। মঙ্গলবার কলকাতায় পেট্রোলের দাম ছিল ৭৪.৯৮ টাকা। সোমবার এই দাম ছিল ৭৪.৪৬ টাকা। দাম বাড়ে এক দিনের ফারাকে ৫২ পয়সা। এর আগে সোমবার দাম বেড়েছিল ৫৭ পয়সা। ৭৩.৮৯ থেকে দাম হয়েছিল ৭৪.৪৬। তারও আগে টানা ২ মাস সাত দিন অপরিবর্তিত ছিল কলকাতার পেট্রোলের দাম। বিশাল পরিমাণে কেন্দ্রের শুল্ক বৃদ্ধি হলেও কলকাতার পেট্রোলের দামে তার কোনও প্রভাব পড়েনি। দাম আটকে ছিল ৭৩.৩০ টাকায়। ৬৭ দিন পর প্রথম দাম বাড়ে রবিবার। সেই চেন শেষ পর্যন্ত ভেঙ্গে যায় গত সপ্তাহের রবিবার। দীর্ঘদিন এক স্থানে কলকাতার পেট্রোলের দাম আটকে থাকা কোনও সুখবর নিয়ে আসেনি। উলটে এই মন্দার বাজারে যখন মানুষ পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এড়িয়ে নিজস্ব যান ব্যবহারের চেষ্টা করছে ঠিক তখনই পকেটে চাপ ক্রমে বাড়াচ্ছে।

প্রসঙ্গত সারা দেশেই গত ৭ জুন থেকে ধাপে ধাপে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। তবে শহর বিশেষে বিভিন্ন রাজ্য সরকারের স্থানীয় শুল্কের তারতম্যের ফলে এই মূল্যবৃদ্ধির পরিমাণও ভিন্ন। প্রায় ১২ সপ্তাহ আগে গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে নিত্যদিনের সংশোধিত মূল্যতালিকা প্রকাশ স্থগিত রাখে জ্বালানি তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলি। তবে লকডাউনের নিয়ম শিথিল হওয়ার পর চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফের প্রতি দিন সংশোধিত দাম প্রকাশ করছে তারা।

তবে রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি বিপণনকারী সংস্থা, যেমন ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন , ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড গ্রাহকদের কাছ থেকে বাড়তি শুল্ক তোলার পরিবর্তে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হ্রাসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করছে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু বিশ্ববাজারে যা-ই হোক না কেন, ভারতে পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে। কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারগুলি করোনা-সংকট কাটিয়ে উঠতে জ্বালানির উপর বাড়তি শুল্ক ধার্য করতে পারে বলেও সূত্রের খবর।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ