লিমা : বিশ্বজোড়া করোনাময় পরিস্থিতিতে একের পর এক বিষ্ময়কর ঘটনা ঘটেই চলেছে। আর এই চলতি অতিমারীর মধ্যে এবার দু-হাজার বছরের পুরোনো দৈত্যাকৃতির এক বিড়ালের সন্ধান দিলেন প্রত্নবিদরা।

তবে এ বিড়াল আবার চলাফেরা করতে পারে না। মাছের গন্ধ পেলে মিঞ মিঞ করে ডাকেও না! কী ভাবছেন এমন বিড়াল আবার হয় নাকি? আজ্ঞে হয়, আমাদের এই পৃথিবীতেই রয়েছে সে। তবে কোনও গৃহপালিত প্রাণী হিসেবে নয়, পেরুর নাজকা মরুভূমি এলাকায় পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা এমনই এক দৈত্যাকৃতির বিড়ালের ছবির সন্ধান পেয়েছেন পুরাত্বাত্তিকরা। শুধু তাই নয়, আরও জানা গিয়েছে ঐ ছবিটি প্রায় ২ হাজার বছরের পুরোনো।

এই বিষয়ে বলতে গিয়ে পেরুর নাজকা অঞ্চলের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জনি ইসলা জানিয়েছেন যে, সাদা রঙের কোনও বস্তু দিয়ে পাহারের গায়ে খোদাই করা ১২০ ফুট লম্বা ঐ ছবিটিতে দেখা গিয়েছে, বর্তমান বিড়ালের মতো পা, লেজ, মুখ এবং নাক-কান, চোখ সবই রয়েছে । যদিও সেটি সত্যিই বিড়াল নাকি, অন্যকিছুর আঁকার চেষ্টা করতে গিয়ে বিড়ালের মতো কোনও প্রাণীর ছবি আঁকা হয়ে গিয়েছিলো তা স্পষ্ট নয়।

তবে দক্ষিণ আমেরিকার নাজকা সংস্কৃতির অঙ্গ এই ছবি। এর আগেও অবশ্য ওই এলাকায় এরকম ধাঁচের বানর, মাকড়শা, কুকুর, টিকটিকি এমনকি তিমি মাছের ছবিও দেখতে পাওয়া গিয়েছে। ৪৫০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে রয়েছে এই নাজকা লাইন। এটি আবিষ্কার হয় ১৯২৭ সালে। প্রত্নতাত্ত্বিকেরা জানান, রাজধানী লিমার দক্ষিণে নাজকা লাইনে খোঁজ মেলা বিড়ালের এই ছবিটি ১২০ ফুট লম্বা। ছবির রেখাগুলিও যথেষ্ট মোটা। ১২-১৫ ইঞ্চি পুরু।

শুধু তাই নয়, পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা এই ছবি গুলির আাকার এতটাই বড় হয় যে, এগুলি আকাশ পথ থেকেও দেখা যায়। তবে এর আগে এত বড় বিড়ালের ছবি আগে কখনও দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন প্রত্নবিদরা।

আর এই নাজকা এবং প্যারাকাস সংস্কৃতির দ্বারা নির্মিত ভূগোল গুলি পেরু-কলম্বিয়ার ইতিহাসের স্মরণীয়। তবে এই ছবি গুলি কে বা কারা এঁকেছে তা এখনও নিশ্চিত ভাবে বলতে পারেননি প্রত্নতাত্ত্বিকেরা।

যদিও ঐতিহাসিক এই অঞ্চলটি করোনা মহামারীর কারণে মার্চ মাস থেকে পর্যটকদের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে এটি ফের ১০ ​​নভেম্বর থেকে আবারও পর্যটকদের জন্য খোলা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।