কলকাতা: রাজ্যে করোনার তথ্য গোপন করার চেষ্টা করছে সরকার৷ আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা গোপন করছে বলে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা৷ তার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, অত্যন্ত অন্যায়৷ এটা সুস্থ মানসিকতার লক্ষণ নয়৷ এটা রাজনীতি করার সময় নয়৷

দিলীপবাবু বা তাঁর সমগোত্রীয় নেতা-নেত্রীরা যাঁ করছেন , তাঁরা ঈর্ষাতে করছেন৷ আমি বলছি, ইর্ষার কোনও কারণ নেই৷ এটা রাজনীতি করবার সময় নয়৷ রাজনৈতিক সমালোচনা করার বহু সময় পাবেন৷ দিলীপবাবুদের বলব, সমালোচনা করবেন না৷ আসুন সবাই মিলে কাজ করি৷

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভিডিয়ো বার্তা প্রসঙ্গে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন , “উনি ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী৷ সুতরাং, তাঁর সমালোচনা আমি করব না৷ তাঁর মনে হয়েছে , তিনি ঘণ্টা বাজাতে বলেছিলেন৷ কিছু লোক ঘণ্টা বাজিয়েছেন৷ আমি ভয় পাচ্ছি , অনেকে ঘণ্টা বাজানোর সময় মিছিল করেও ঘণ্টা বাজিয়েছেন৷ এবার রাত ৯টার সময় লোক যদি সব নিয়ম ভেঙ্গে ৯ মিনিট ধরে মোমবাতি নিয়ে ঘুরতে শুরু করে, তাহলে তো একটা বিপজ্জনক অবস্থা হবে৷ সেদিকটা যেন সবাই খেয়াল রাখে৷ আমরা কোনও সমালোচনার মধ্যে যাচ্ছি না৷

অন্যদিকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র খোলা চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে প্রশ্ন করলেন, আপনার কাছে কোনটা অগ্রাধিকার ? থালা বাজানো ? মোমবাতি জ্বালানো ? নাকি দেশের অর্থনীতি এবং গরিব মানুষকে বাঁচানো ?

করোনা আতংকে দেশ জুড়ে যে সঙ্কটময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার বিরুদ্ধে সকলকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গত ২৫ মার্চ দেশ জুড়ে লকডাউন ঘোষণা করেছিলেন তিনি। ঠিক তার ৯ দিনের মাথায় শুক্রবার ফের দেশবাসীর উদ্দেশে করোনা নিয়ে ভাষণ দিলেন মোদী।

তিনি বলেন, “লকডাউনের আজ নবম দিন। আপনারা যে ভাবে সরকারকে সহযোগিতা করেছেন তা প্রশংসনীয়।” এরপর দেশবাসীর উদ্দেশে করোনা নিয়ে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “৫ এপ্রিল আপনাদের সকলের কাছ থেকে ৯ মিনিট সময় চেয়ে নিচ্ছি। ওই দিন রাত ৯টায় ৯ মিনিটের জন্য সকলে ঘরের আলো নিভিয়ে রাখুন।”

পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, “ওই সময় বাড়িতে থেকেই প্রদীপ, মোমবাতি, টর্চ জ্বালান। তাও যদি না হয়, মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইট জ্বালান।” মোদীর এই বক্তব্যকে তীব্র কটাক্ষ করে প্রদেশ সভাপতি লিখেছেন, “আগে থেকে পরিকল্পনা না করে লক ডাউন ঘোষণা করলেন । এর আগেই আপনার আগের ভুল সিদ্ধান্ত গুলো ( নোটবন্দি, ত্রুটিপূর্ণ জি এস টি ) দেশের অর্থনীতি কে খাদের কিনারায় নিয়ে এসেছে। আপনার ভাষণে দেশের মানুষ কি ভাবে বাঁচবে তাঁর তো কোন কথা নেই। পরিযায়ী শ্রমিকদের আগেই তাঁদের বাড়ি চলে যেতে বলতে পারতেন। তাহলে আপনার মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সরকারকে গরিব মানুষগুলোকে বিষ দিয়ে স্নান করাতে হত না। “