হায়দরাবাদ: মাত্র ৮ দিনেই শেষ৷ হায়দরাবাদ গণধর্ষণকাণ্ডে জড়িত চার অভিযুক্তের এনকাউন্টার প্রসঙ্গে মুখ খুললেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের প্রেসিডেন্ট আসাদুদ্দিন ওয়েসি। এই ধরনের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সরকারের সমালচনাও করেন তিনি।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, এই ধরনের ঘটনা কখনই সমর্থনযোগ্য নয়। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে এই ধরনের এনকাউন্টারের বিরোধিতা করছি। পুলিশের হেফাজতেই অভিযুক্তদের এনকাউন্টার হল। এই ধরনের ঘটনা সমর্থনযোগ্য নয়।’

এরপরেই সরকারের দিকে তোপ দাগেন তিনি। তিনি বলেন, ‘সংসদ ভবনে দাঁড়িয়ে সাংসদরা তৎক্ষণাৎ বিচার চাইছেন। আজমল কাসবের সময় বিচারপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা সম্ভব হলে এইবারে হল না কেন?’

হায়দরাবাদে গত বৃহস্পতিবার পশু চিকিৎসককে ধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় চার অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পরেই আসমুদ্রহিমাচল জুড়ে কঠোর শাস্তির দাবি ওঠে। রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে অভিযুক্তদের গণপিটুনির পক্ষে সওয়াল করেন রাজ্যসভার সদস্য জয়া বচ্চন। এই নিয়েও শুরু হয়ে যায় বিতর্ক।

এর মাঝেই শুক্রবার ভোররাতে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় হায়দরাবাদে চিকিত্সক গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় চার অভিযুক্তের। তদন্তের জন্য তাদের তেলঙ্গানার সাদনগরের ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। সাইবরাবাদের পুলিশ কমিনশনারের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। সে সময় পুলিশের গুলিতে তাদের মৃত্যু হয়। তেলঙ্গানার আইনমন্ত্রী এ ইন্দ্রকরণ রেড্ডি জানিয়েছেন, ‘অভিযুক্তরা পুলিশের অস্ত্র ছিনতাই করে পালানোর চেষ্টা করে। গুলি চালায় পুলিশ। তাতেই মৃত্যু হয় অভিযুক্তদের’।

ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য চার অভিযুক্তকে নিয়ে যাওয়া হয় সাদনগরে ৪৪ নন্বর জাতীয় স়ড়কের আন্ডার পাসের কাছে। গত ২৭ নভেম্বর শামশাবাদে টোলপ্লাজার কাছে ধর্ষণ করে খুনের পর প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে সাদনগরের পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল ওই চিকিৎসক তরুণীকে। পরের দিন ওই তরুণী দগ্ধ দেহ পাওয়া গিয়েছিল। ঘটনার দিন ঠিক কী ঘটেছিল তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য জোগাড় করতেই শুক্রবার ভোররাতে অভিযুক্তদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাদনগর নিয়ে যাওয়ার সময় সুযোগ বুঝে পালানোর চেষ্টা করে ওই চার জন। বাধ্য হয়ে গুলি চালায় পুলিশ। তাতেই মৃত্যু হয় ওই চার অভিযুক্তের। সাইবারাবাদ পুলিশ কমিশনার ভি সি সজ্জনার সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত আরিফ, নবীন, শিবা ও চেন্নাকেশাভুলু পুলিশের গুলিতে মারা গিয়েছে। ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার পথে সাদনগরের চাতানপল্লিতে পুলিশের হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। ঘটনাটি হয়েছে শুক্রবার রাত তিনটে থেকে ভোর ছ’টার মধ্যে।

তবে এই ঘটনার পর থেকেই শুরু হয় বিতর্ক । সমাজের একাংশের প্রশংসা জুটলেও এ ঘটনার নিন্দায় মুখর হয়েছেন অনেকে। তাঁদের মতে, এতে বিচারব্যবস্থার অস্তিত্বকেই চ্যালেঞ্জ করা হয়। গোটা ঘটনার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। এবারে সেই নিয়ে প্রশ্ন তুললেন এআইআইএম প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়েসিও।