স্টাফ রিপোর্টার , হাওড়া : রক্ত ধর্ম বোঝা না। শুধু রং চেনে। যা মিলিয়ে দেয় মানুষকে। তেমনই এক সম্প্রিতির ছবি দেখা গিয়েছে শ্যামপুরে। এক হিন্দু ব্রাহ্মনের রক্ত গেল মুসলিম সন্তানের দেহে। জান পেল থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ছোট্ট শবনম।

দেশের পাশাপাশি এরাজ্যেও ক্রমশ বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। অন্যদিকে দীর্ঘ লকডাউনের জেরে নিম্ন মধ্যবিত্তের ভাঁড়ার প্রায় শূন্য। পাশাপাশি,রাজ্যের বিভিন্ন ব্ল্যাডব্যাঙ্কগুলিতে রক্তের সংকট দেখা দিয়েছে। মুমূর্ষু রোগী , থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তদের পরিবারকে একফোঁটা রক্তের জন্য এক ব্ল্যাড ব্যাঙ্ক থেকে আরেক ব্ল্যাডব্যাঙ্ক ছুটতে হচ্ছে। তারপরও রক্তের দেখা মিলছে না। ঠিক একই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিল রামচন্দ্রপুর গ্রামের সৈয়দ সাদরুল্লাকে। সাদরুল্লার মেয়ে ১১ বছরের মেয়ে শবনম পারভিন থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত।শবনমকে বাঁচাতে প্রয়োজন ছিল A+ গ্রুপের রক্ত।তারপাশে রক্ত দিয়ে এগিয়ে এলো শ্যামপুর থানার নুনেবাড় গ্রামের বাসিন্দা শুভঙ্কর চক্রবর্তী।

এভাবেই ধর্মীয় বেড়াজালকে ছিন্ন করে রক্তের মাধ্যমে আবারও গড়ে উঠল সম্প্রীতির নজির।উল্লেখ্য,শ্যামপুরের পানশিলা দেউলী আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব প্রতিবছর রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে।কিন্তু,করোনার জেরে এবার তা বন্ধ থাকায় সেই ক্লাবের সদস্যরাই উদ্যোগী হয়ে প্রতিবছর যেসব মানুষ রক্ত দেন তাঁদের লিস্ট ঘেঁটে শুভাশিস চক্রবর্তীর সাথে যোগাযোগ করেন।

শুভাশিসও এককথায় ১১ বছরের ছোট বোনকে রক্ত দিতে রাজি হয়। সেইমতো উলুবেড়িয়া হাসপাতালে গিয়ে শুভাশিস শবনমকে রক্ত দেয়। শুভাশিসের কথায়, ‘এর আগে বিভিন্ন জায়গায় স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছি। কিন্তু এহেন বিচিত্র অভিজ্ঞতা এই প্রথম। তাই আমি মনে করি দেশের এই কঠিন সময়ে আমাদের চিন্তাশীল হতেই হবে। সংঘবদ্ধ লড়াইটা বড় প্রয়োজন। বন্ধ হোক ধর্মের নামে ভেদাভেদ ও হানাহানি। দিনের শেষে আমরা তো মানুষ।’

 

শ্যামপুরের সংগঠনটির সম্পাদক গোলাম কুদ্দুস জানান, ‘আমাদের সদস্যরা নিয়মিত উলুবেড়িয়া হাসপাতালে গিয়ে মুমূর্ষু রোগীদের জন্য রক্তদান করে আসছেন। রক্তের প্রয়োজনে আমাদের সংগঠনের এই লড়াই আগামী দিনে জারি থাকবে।’ কুদ্দুসদের আশা শুভাশিসের মতো যুবকরা কর্মের মধ্য দিয়ে বারেবারে সমাজের দ্বারে বার্তা দিয়ে যাবে।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প