তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: নিকাশি সমস্যার স্থায়ী সমাধান, রাস্তা ও জঞ্জাল নিয়মিত পরিস্কারের দাবিতে আসন্ন পুরভোট ‘বয়কটে’র ডাক দিলেন বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাক্ষীগোপাল পাড়ার বাসিন্দারা।

তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ড এই কাজে উদাসীন, তাই বাধ্য হয়েই ভোট বয়কটের ডাক দিতে হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন। শুধু ভোট বয়কটের ডাক দিয়েই থেমে থাকেননি এখানকার মানুষ। ঘরের বাইরে বেরিয়ে রীতিমতো বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন তাঁরা।

সাক্ষীগোপাল এলাকার মানুষের এই সিদ্ধান্তে বেজায় অস্বস্তিতে শাসক শিবির। আর এই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে উঠে পড়ে লেগেছে এই মুহূর্তে অন্যতম বিরোধী বিজেপি। স্থানীয় বাসিন্দা জয় মহন্ত, রাজকুমার দে’রা সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরকে দায়ী করে বলেন, নিকাশী ব্যবস্থা ঠিকঠাক না থাকার কারণে দুই পাড়ার মধ্যে ঝামেলা হচ্ছে। পদ্মা বৈরাগী নামে আর এক বাসিন্দা বলেন, পুরসভা উদাসিন।

নিকাশিনালার সমস্যার জেরে রাস্তা নোংরা আবর্জনায় ভরে যাচ্ছে। এলাকার মানুষের পাশাপাশি তিনশো বছরের প্রাচীণ সাক্ষী গোপাল দেখতে আসা পর্যটকরাও সমস্যায় পড়েন। তরুণ কান্তি চৌধুরী বলেন, আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা কেউ ভোট দিতে বুথমুখী হব না।

খবর পেয়ে এদিন ওই এলাকায় যান বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। এলাকাবাসীর দাবিকে তিনি সমর্থণ জানিয়েছেন। তাঁর সাংসদ এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে এই কাজে ৩০ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে পুরপ্রধান শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবসর নেওয়া উচিত দাবি করে তৃণমূল পরিচালিত এই পৌরসভাকে বিষ্ণুপুর ‘লাল বাঁধের জলে ফেলে’ দেওয়ার ডাক দেন।

এবিষয়ে পৌরপ্রধান শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বিষয়টি জানা ছিল না জানিয়ে বলেন, ওই এলাকার মানুষের সঙ্গে এবিষয়ে আলোচনায় বসা হবে।