স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: পুর নির্বাচনের দিন ঘোষণা হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলি প্রার্থীও ঘোষণা করেনি। তার আগেই মালদহের ইংরেজবাজারে পছন্দের প্রার্থীর নাম দেওয়ালে লিখতে শুরু করেছে তৃণমূল। ইতিমধ্যেই ইংরেজবাজারের স্থানীয় এক তৃণমূলকর্মী তথা ব্যবসায়ী সুজিত কুমার সাহাকে প্রার্থী চেয়ে তাঁর নামে এলাকায় অসংখ্য দেওয়াল লিখন হয়েছে।

জানা গিয়েছে, ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক নিহার ঘোষের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সুজিত কুমার দাস। এলাকার জনগণ যে তাঁকে প্রার্থী হিসাবে চাইছেন তা অবশ্য একবাক্যে স্বীকার করেছেন সুজিত সাহা। তিনি বলেন, ”আমার সমর্থনে দেওয়াল লিখন হয়েছে। সেটা এলাকার জনগণ করেছে। আমি কাউকে কিছু বলিনি। তবে দল চাইলে আমি পুর- নির্বাচনে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের থেকে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক।”

এদিকে সুজিত কুমার সাহাকে নিয়ে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থীর দাবিতে দেওয়াল লিখনের বিষয়ে রাজনৈতিক গুঞ্জন শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, সমস্ত বিষয়টি পরিকল্পনামাফিক করা হয়েছে। তবে তৃণমূল নেতৃত্ব কাকে ওই ওয়ার্ডে পুর নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে বেছে নেবে তা জানতে অবশ্য এখনো ঢের দেরি। তারমধ্যে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে এরকম প্রার্থী পদের দাবি নিয়ে দেওয়াল লিখনে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

ইংরেজবাজার পুরসভার মোট ২৯ টি ওয়ার্ড রয়েছে। তারমধ্যে এবারের পুর নির্বাচনের সংরক্ষণের কোপে পড়েছে ইংরেজবাজার পুরসভার অনেক ওয়ার্ড। তবে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডটি এবারের সংরক্ষণের কোপে পড়েনি। এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন বর্ণালী হালদার। গত পুর-নির্বাচনে তিনি সিপিএম থেকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে জয়ী হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তৃণমূলে যোগদান করেন। কিন্তু কাউন্সিলর বর্ণালী হালদারের বিরুদ্ধে বয়সে কারচুপি করার অভিযোগে ওঠে। এরপরই তার কাউন্সিলর পদ খারিজ হয়ে যায়। বর্তমানে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডটি কাউন্সিলরহীন হয়ে রয়েছে। আর তার মধ্যে ব্যবসায়ি সুজিত কুমার দাসের এরকম দেওয়াল লিখন নিয়ে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন।

২৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণপাড়া, জাহাজফিল্ড, ডগপুকুর, তেলিপুকুর, জগন্নাথ কলোনি, নেতাজি কলোনী সহ একাধিক এলাকায় দেওয়াল লিখনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “যখন ডাকি তখন পাই, সুজিত কুমার সাহাকে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী হিসেবে চাই।” এ প্রসঙ্গে সুজিত কুমার সাহা বলেন, ”আমি একজন তৃণমূল কর্মী। সারাবছর মানুষের জন্য কাজ করে আসছি। তবে আমি কাউকে দেওয়াল লিখতে বলিনি। এলাকার জনগণ আমাকে পছন্দ করেন এবং ভালবাসেন। তাই এলাকার জনগণ আমার সমর্থনে দেওয়াল লিখেছে। তবে দল চাইলে আমি প্রার্থী হব।”

এদিকে ইংরেজবাজারের তৃণমূল বিধায়ক নিহার ঘোষ বলেন, ”প্রার্থী ঠিক করবে দল। কে কোথায় দেওয়াল লিখলো তা নিয়ে কিছু যায় আসে না। তবে মানুষের উৎসাহ থাকলে তো আমরা আটকাতে পারবো না। পুর নির্বাচন এখনও ঘোষণা হয়নি। নির্বাচন ঘোষণা হলে প্রার্থী নিয়ে আলোচনা হবে।রাজ্য নেতৃত্ব ঠিক করবে কে কোন ওয়ার্ডের প্রার্থী হবেন।”