তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: শীতকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে ইংরাজী নববর্ষের প্রথম দিনে সকাল থেকেই পিকনিকের মেজাজে বাঁকুড়া। ভ্রমণ প্রিয় আর ভোজন রসিক বাঙালি এদিন সকাল থেকেই বেরিয়ে পড়েছেন জেলার বিষ্ণুপুর, মুকুটমনিপুর,শুশুনিয়া, বিহারীনাথ, গাংদুয়া জলাধার, তালডাংরার চেঁচুড়িয়া ইকো পার্ক, রাইপুরের সবুজ দ্বীপ, সারেঙ্গার বড়দি পাহাড়, সোনামুখীর রণডিহা জলাধার সহ জেলার বিভিন্ন ছোটো বড় পর্যটন ক্ষেত্র গুলির উদ্দেশ্যে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিল ধারণের জায়গা নেই এই সব জায়গা গুলিতে।

বিষ্ণুপুর: ‘মন্দির নগরী’ বিষ্ণুপুরে সারা বছরই দেশী-বিদেশী পর্যটকদের ভীড় লেগেই থাকে। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সকাল থেকেই প্রাচীণ টেরাকোটা মন্দির, স্থাপত্যের টানে ছুটে এসেছেন মানুষ। পর্যটকদের সুরক্ষায় প্রশাসনের তরফে একদিকে যেমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

মুকুটমনিপুর: জেলার একেবারে দক্ষিণের জল, জঙ্গল আর পাহাড়ি সৌন্দর্যে ঘেরা মুকুটমনিপুরে এদিন সকাল থেকেই মানুষের ঢল। মুকুটমনিপুর ডেভেলপম্যান্ট অথরিটির উদ্যোগে পর্যটন মরশুমে নতুনভাবে সেজে উঠেছে ‘বাঁকুড়ার রাণী’। প্রশাসনের তরফে যেকোন ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তৈরী আছেন বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীরাও।

শুশুনিয়া: জেলার অন্যতম এই পর্যটন ক্ষেত্রে পাহাড়, পাহাড়িয়া ঝর্ণা আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে সকাল থেকেই পৌঁছে গেছেন ভ্রমণ পিপাসুরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেই সংখ্যাটা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করেছে। এখানেও প্রশাসনের তরফে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিহারীনাথ:বাঁকুড়া শহর থেকে ৬০ কিলোমিটার ও শালতোড়া থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে জেলার উচ্চতম পাহাড় বিহারীনাথ। একই সঙ্গে এই অঞ্চলটি জেলার অন্যতম গভীর বনাঞ্চলও বটে। এই পাহাড়ের উচ্চতা ৪৫১ মিটার অর্থাৎ ১,৪৮০ ফুট বিহারীনাথ পাহাড় এলাকায় এক সময় বেশ কিছু প্যালিওলিথিক প্রত্নসামগ্রী উদ্ধার হয়। এর পর থেকেই এই পাহাড় ও পাহাড়তলি নিয়ে পুরাতাত্ত্বিক গবেষক মহলে বিশেষ আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। পাহাড়, জঙ্গল, প্রাচীণ জৈন মন্দির ও একটি ছোটো জলাধারকে কেন্দ্র করে এখানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। অন্যান্য বছরের মতো এবছরও এদিন সকাল থেকেই মূলত বনভোজনের উদ্দেশ্যে আসা পর্যটকদের ভিড় জমে উঠেছে।

গাংদুয়া: বাঁকুড়া শহর থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার দূরে গাংদুয়া জলাধারে পিকনিকের মেজাজে মানুষ। বাম আমলে মূলত সেচের জল ধারণের জন্য তৈরী হলেও এখন ভ্রমণপ্রিয় মানুষের অন্যতম পছন্দের জায়গা জল, জঙ্গল আর পাহাড়ী সৌন্দর্যে ঘেরা এই এলাকা। সকাল থেকেই অসংখ্য মানুষ এখানে হাজির হয়েছেন।

বড়দি পাহাড়: কংসাবতী নদীর কোলে প্রাকৃতিক পরিবেশে কিছুটা মন ভালো করা সময় কাটানোর আদর্শ জায়গা এই বড়দি পাহাড়। এখানে আসা পর্যটকদের কথা ভেবে প্রশাসনের তরফে বিভিন্ন ধরণের পরিকাঠামো তৈরী করা হয়েছে। এখানেও সকাল থেকেই তিল ধারণের জায়গা নেই এখানে।

রণডিহা ড্যাম: এদিন সকাল থেকেই উৎসব প্রিয় বাঙালি বেরিয়ে পড়েছেন। সোনামুখীর রাধামোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রণডিহা জলাধারেও অসংখ্য মানুষ ভিড় করেছেন। এলাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে বাইরে থেকেও প্রচুর মানুষ এখানে এসেছেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের তরফে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

জেলার নামীদামি পর্যটন কেন্দ্র গুলির পাশাপাশি শিলাবতী, কংসাবতী সহ অন্যান্য নদী গুলিতেও এদিন সকাল থেকেই প্রচুর জনসমাগম লক্ষ্য করা গেছে। মূলত বনভোজনের উদ্দেশ্যেই মানুষ এখানে হাজির হয়েছেন। সব মিলিয়ে ইংরাজী নতুন বছরের প্রথম দিনের আনন্দ চেটে পুটে ভাগ করে নিছে বাঁকুড়ার উত্তর থেকে দক্ষিণের সব অংশের মানুষ। উৎসবের মেজাজে রয়েছেন আট থেকে আশি সকলেই।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও