নিবেদিতা দে, কলকাতা: খাওয়ার জলের বড়ই অভাব৷ স্থানীয় কাউন্সিলর, বিধায়ককে জানিয়েও মেটেনি সমস্যা৷ গত তিন বছর ধরে একই অবস্থা দমদম রোডের সিআইটি আবাসনে৷ প্রচারে বেরিয়ে সেই অভিযোগই শুনতে হল উত্তর কলকাতার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ তবে সুদীপের দাবি, সমস্যা সমাধানে ইতিমধ্যেই অনুমোদন প্রাপ্ত হয়েছে প্রকল্পটি৷ ভোট মিটলেই শুরু হবে কাজ৷ তবে বাসিন্দাদের সাফ কথা, ঠুনকো প্রতিশ্রুতিতে আর চিঁড়ে ভিজবে না৷

উত্তর কলকাতার নানা এলাকায় ঘুরে ঘুরে প্রচার করছেন তৃণমূল প্রার্থী৷ শুনছেন মানুষের অভাব-অভিযোগ৷ গত বুধবার দমদম এলাকায় প্রচার সারেন সুদীপবাবু৷ সেখানে সিআইটি আবাসনে পৌছতেই প্রথমে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় তাঁকে৷ পরে নিজেদের চাহিদার কথা আবাসনের বাসিন্দারা জানান প্রার্থীকে৷ এক বাসিন্দার কথায়, খাওয়ার জলের খুব সমস্যা এখানে৷

এতগুলো ঘর একসঙ্গে থাকি৷ কিন্তু খাওয়ার জলের তেমন কোনও ব্যবস্থা নেই৷ ছাদের ট্যাঙ্কের জল খোলা পড়ে থাকে৷ পোকা-মাকড় মরে পড়ে থাকে জলে৷ ওই জল খাওয়ার অযোগ্য৷ আর বাইরে দু’জায়গায় টালার জল আসে৷ সেখান থেকেই খাওয়ার জল ভরতে হয়৷ কিন্তু মাত্র দু’জায়গায় হওয়ায় খুব ভিড় পড়ে যায়৷ এখানে টালার জল আমরা প্রতি ঘরে ঘরে পেলে সুবিধা হয়৷

পাশে থাকা স্থানীয় কাউন্সিলর ও বিধায়কের সঙ্গে কথা বলে সুদীপবাবু জানান, প্রতি ঘর যাতে টালার জল পায় সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ ইতিমধ্যেই সেই প্রকল্প অনুমোদন প্রাপ্ত হয়েছে৷ কাজ শুরু হওয়ার অপেক্ষায়৷ তবে প্রার্থীর কথা শুনেই, আবাসনের বাসিন্দাদের এই কথা জানাতেই আওয়াজ উঠল, এই কথা তো গত তিন-চার বছর হয়ে গেল শুনছি, কিন্তু আসলে কাজটা হবে তো? পাশ থেকে তৃণমূলীদের আওয়াজ নিশ্চই হবে৷ ভোটটা শুধু জোড়াফুলে দিতে হবে৷ তাহলেই হবে সমস্যার সমাধান৷

অভিযোগ, আবাসনের বাসিন্দারা এলাকার কাউন্সিলর গৌতম হালদার সহ বিধায়ক মালা সাহার কাছে বহুবার সমস্যা জানিয়েছেন৷ কিন্তু শুধু প্রতিশ্রুতিই সার৷ সামনেই লোকসভা ভোট৷ প্রতিশ্রুতির ডালি নিয়ে ভোট চাইতে হাজির হবেন নেতারা, তা আগেই জানা ছিল বাসিন্দারা৷ আর তখনই মওকা বুঝে দর হাঁকবেন বলে ঘুঁটি সাজিয়েই রেখেছিলেন সিআইটি আবাসনের বাসিন্দার৷ দমদম রোডের সেই আবাসনে প্রচারে গিয়ে জল নিয়ে একরাশ অভিযোগের কথাই শুনতে হল উত্তর কলকাতার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীকে৷

এই সিআইটি আবাসনে ৩৬৫ ঘর মানুষের বাস৷ একসময় বাগবাজার বস্তিকে উচ্ছেদ করেই এই আবাসনে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয় সরকারের তরফে৷ কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই আবাসনে খাওয়ার জলের সমস্যায় ভুগছেন বাসিন্দারা৷ প্রতি ঘরে সর্বক্ষণের জন্য জলের ব্যবস্থা রয়েছে ঠিকই, তবে সে জল খোলা ট্যাঙ্কের জল৷ তা দিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ সারা গেলেও সেই জল মুখে তোলা দায়৷ বাসিন্দাদের আক্ষেপ, ‘ভোট আসলে প্রতিশ্রুতি বন্যা নেতাদের মুখে, ভোট মিটলেই প্রতিশ্রুতির কথা ভোলেন নেতারা৷ সমস্যা সমস্যার জায়গাতেই থাকে৷’

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.