নয়াদিল্লি: খাতায়-কলমে আন্তর্জাতিক কেরিয়ারটা শেষ হয়ে গিয়েছিল ২০১২-তেই। এরপর বিভিন্ন স্তরে নিজেকে প্রমাণ করে জাতীয় দলের ফেরার চেষ্টা করলেও জাতীয় দলের দরজা আর খোলেনি ২০০৭ টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম কারিগরের জন্য। সেজন্য কাউকে কখনও দোষারোপ করেননি ইরফান পাঠান। বিদায়বেলাতেও এমন অনিশ্চিত কেরিয়ারের জন্য কাঠগড়ায় তুললেন না কাউকে। শুধু জানালেন অন্যান্যরা যে সময় কেরিয়ার শুরু করে, আমার কেরিয়ার শেষ হয়ে গিয়েছিল সেই সময়।

সালটা ২০০৩। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দলের সঙ্গে ডনের দেশে উড়ে গিয়েছিলেন মাত্র ১৯ বছর বয়সে। ওই সফরের দ্বিতীয় টেস্টে অ্যাডিলেডে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক। এরপর অচিরেই হয়ে উঠেছিলেন দলের নিয়মিত সদস্য। মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিন ফর্ম্যাটে ৩০১ আন্তর্জাতিক উইকেট। টেস্ট ক্রিকেটে দেশের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিকের নজির, টি-২০ বিশ্বকাপ জয়। ভাড়ারে ছিল অনেক কিছুই। কিন্তু কেরিয়ারের মধ্যগগনে হঠাৎই হারিয়ে গেলেন ভারতীয় ক্রিকেটের এক প্রতিশ্রুতিমান অল-রাউন্ডার। যার সঠিক ব্যাখ্যা হয়তো অজানা অনেক বড় বড় ক্রিকেটবোদ্ধাদের কাছেও।

পেশাদার কেরিয়ারের বিদায়বেলায় তাই হতাশা চেপে রাখতে পারলেন না ইরফান নিজেও। বরোদা অল-রাউন্ডার জানালেন, ‘অন্যেরা কেরিয়ার শুরু করে ২৭-২৮ বছর বয়সে। ৩৫ অবধি চুটিয়ে খেলে তারা। আমার বয়স যখন ২৭, তখন আমার ঝুলিতে ৩০১ আন্তর্জাতিক উইকেট। সেখানেই শেষ। আক্ষেপের জায়গা সেখানেই।’ জম্মু-কাশ্মীর ক্রিকেট দলের কোচ কাম মেন্টরের আরও সংযোজন, ‘আমি আরও বেশি সংখ্যায় ক্রিকেট খেলে উইকেট সংখ্যাটা ৫০০-৬০০’তে নিয়ে যেতেই পারতাম। আরও রান করতে পারতাম। কিন্তু কেরিয়ারের মধ্যগগনে থাকা সত্ত্বেও সেটা সম্ভব হয়নি। যদিও এ নিয়ে আমার কোনও অভিযোগ নেই, কিন্তু পিছনে ফিরে তাকালে কিছুটা দুঃখ হয়।’

শনিবার সবধরনের ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন দেশের হয়ে ২৯টি টেস্ট, ১২০টি ওয়ান-ডে ও ২৪টি টি-২০ খেলা ইরফান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তাঁর বিষাক্ত সুইং ভুলেছে বেশ কয়েকবছর হল। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বেশ কিছু ঈর্ষনীয় কীর্তিটলেখা হয়ে গিয়েছে ‘প্রাক্তন’ ভারতীয় অল-রাউন্ডারের নামে, যেগুলো ইরফানের হয়েই থেকে যাবে।

একনজরে চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক সেগুলিতে:

১. আন্তর্জাতিক ওয়ান-ডে’তে একমাত্র বোলার হিসেবে একটি ম্যাচে ৯টি উইকেট রয়েছে তাঁর নামের পাশে। ২০০৩ অনুর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলের হয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৬ রানে বিপক্ষের ৯ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন ইরফান। আন্তর্জাতিক ওয়ান-ডে ক্রিকেটে এই বিরল কৃতিত্ব দ্বিতীয় কোনও বোলারের নেই।

২. আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একই ম্যাচে বল এবং ব্যাট হাতে ওপেন করার কীর্তি রয়েছে ইরফানের। জাতীয় দলের হয়ে দু’টি ম্যাচে বল-ব্যাট হাতে ওপেন করেছিলেন বরোদার এই অল-রাউন্ডার। পাকিস্তানের মহম্মদ হাফিজ ও তিলাকরত্নে দিলশানের ঝুলিতেও রয়েছে এই নজির।

৩. টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ম্যাচের প্রথম ওভারে হ্যাটট্রিকের বিরল নজির রয়েছে ইরফান পাঠানের নামের পাশে। ২০০৬ করাচিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই বিরল কৃতিত্বের অধিকারী হয়েছিলেন ভারতীয় অল-রাউন্ডার।

৪. প্রথম ভারতীয় হিসেবে একটি টি-২০ ম্যাচে প্রথম ৪ উইকেট নেওয়ার নজির গড়েছিলেন ইরফান। ২০০৫ কাউন্টি ক্লাব মিডলসেক্সের হয়ে ২৭ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।

৫. ওয়ান-ডে ক্রিকেটে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে দ্রুততম ১০০ উইকেটের মালিক ইরফান।

৬. আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টেস্ট ও ওয়ান-ডে দু’টি ফর্ম্যাট মিলিয়ে দেশের হয়ে তিনটি হ্যাটট্রিক শিকারী ইরফান। ২০১৯ কুলদীপ যাদব তাঁর নজির ছুঁলেও চায়নাম্যানের হ্যাটট্রিক কেবল ৫০ ওভারের ম্যাচেই সীমাবদ্ধ।