প্রদ্যুত দাস, জলপাইগুড়ি: দিতে হবে নাগরিকত্বের প্রমাণ! যদি না থাকে বায়োমেট্রিক নাগরিকত্ব তবে যাবতীয় পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হবেন আপনি৷ এমনকি নিজের আমানত ব্যাঙ্কে জমা রাখতে হলেও চাই আধার পরিচয় পত্র। কিন্তু সেই আধারে নাম তুলতে আঁধার রাতে স্ত্রী সন্তান নিয়ে ব্যাঙ্কের বাইরে রাত জাগছেন দেশের সাধারণ মানুষ৷ এমনই ছবি ধরা পড়ল জলপাইগুড়ি শহরে৷

আধার কার্ডের জন্য নাম তোলা মোটেও যে সহজ কাজ নয়, তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন এইসব মানুষ৷ এরজন্য ব্যাংকবাবুদের ইচ্ছার উপরেই নির্ভর করতে হয় সাধারণ মানুষকে। তাই সারা রাত জেগেই লাইন দিলেন বহু মানুষ। জলপাইগুড়ি শহরের পিসি শর্মা মোড়ের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে আধারে নাম তোলা হয়। কিন্তু দিনে ২০ জনের বেশি নাম তোলেন না তারা। অথচ প্রতিদিন কমপক্ষে ১০০ মানুষ লাইন দিতে আসেন এখানে।

ফলে প্রতিদিন বহু মানুষকে ফিরে যেতে হয়। তাই সেই সমস্যা কাটাতেই রাত থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন অনেকে। সোমবার রাত ১০টায় এমন চিত্রই ধরা পড়ল আমাদের ক্যামেরায়। মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় খুলবে ব্যাংক। আর তাই রাত ১০টা থেকেই ছেলে বউ নিয়ে লাইনে এক যুবক। বাড়ি বহুদূর। সকালে এসে বহুবার ঘুরে গিয়েছেন, নাম তুলতে পারেননি আধার কার্ডে। ফলে বাধ্য হয়েই রাত জাগার উদ্যোগ তাদের। একইভাবে লাইনে সরকারী কর্মী এক প্রৌঢ়।

দেশের সরকার আধারকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিয়েছে বহুবার। কিন্তু তাতে বাধ সেধেছে দেশের শীর্ষ আদালত। আধার এখনও বাধ্যতামূলক নয় শীর্ষ আদালতের রায়ে। যদিও তাতে থোরাই কেয়ার করেন সরকারি আধিকারিকেরা। সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ব্যাংক বীমা সংক্রান্ত যাবতীয় কাজের পাশাপাশি যাবতীয় পরিষেবা প্রদানের সময় আধার পরিচয় পত্র সাধারণ জনগনের কাছে চাওয়াই তাদের অভ্যাস। তাই আধারের গুরুত্ব কমেনি এতটুকু।

কিন্তু আধার যতটা গুরুত্ব পাচ্ছে, ততটাই সমস্যা তৈরি হয়েছে আধার পরিচয় পত্র তৈরি করার ক্ষেত্রে। দেশে আধার পরিচয় পত্র তৈরি কাজ শুরু হয় প্রথম ইউপিএ সরকার ক্ষমতায় থাকার সময়েই। যদিও তখন তা ছিল ইচ্ছাধীন। এরপর দ্বিতীয় ইউপিএ সরকার ক্ষমতায় আসার পর নাগরিকদের আধারে নাম তোলার উদ্যোগ শুরু করে। বিভিন্ন এলাকায় ক্যাম্প করে নাম তোলা হয়। এছাড়াও পঞ্চায়েত ও পৌরসভায় নাম তোলার কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা রাখে তৎকালীন সরকার। যদিও সে সময় আধারের ব্যবহার বাধ্যতামূলক ছিলনা।

কিন্তু দেশের মসনদে বসে নরেন্দ্র মোদী বিভিন্ন ক্ষেত্রে আধারকে বাধ্যতামূলক করতে শুরু করেন। প্রথম দিকে বিভিন্ন সাইবার ক্যাফে আধারে নাম তুলতে পারলেও এখন সেই ভার গিয়ে পড়েছে বাছাই কিছু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কাঁধে। আর সমস্যা এখানেই! একদিকে ব্যাংকের কর্মী সংকট। এরসাথে বিপুল কাজের চাপ। তারসাথেই নতুন করে যুক্ত হয়েছে আধারের চাপ। যা কোনো মতেই কাটিয়ে উঠতে পারছেন না ব্যাঙ্কবাবুরা। আর এতেই সমস্যায় অসংখ্য সাধারণ মানুষ।