তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: বনদফতরের জমিতে বেআইনিভাবে পাথর খাদান চালানোর অভিযোগ উঠল শাসক দলের বিরুদ্ধে। বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটি থানা এলাকার দেউলী গ্রামের ঘটনা। এই বিষয়ে সম্মিলিত গ্রামবাসী গণস্বাক্ষর সম্বলিত অভিযোগপত্র বনদফতরের আধিকারিককে দিয়েছেন।

একইসঙ্গে অভিযোগ পত্রের প্রতিলিপি জেলাশাসক ও জেলা বনাধিকারীককে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও লিখিত সেই অভিযোগ পত্রে এই ঘটনায় শাসক দলের যোগের কথা লেখা নেই।

তবে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে এই বেআইনি পাথর খাদান চালানোর পিছনে তৃণমূলের একাংশ জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে। তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব সরাসরি এই ঘটনায় দায় অস্বীকার করেছেন।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, গঙ্গাজলঘাটির দেউলী গ্রামে বনদফতরের জমিতে দীর্ঘদিন ধরে সম্পূর্ণভাবে একটি পাথর খাদান চলছে। খাদানের মাটি তুলে বনদফতরের লাগানো গাছের উপর ফেলা হচ্ছে। ফলে বহু গাছ নষ্ট হচ্ছে।

অন্যদিকে ডিনামাইটের সাহায্য নিয়ে পাথর ভাঙ্গার ফলে গ্রামের বাড়ি ঘরেও ফাটল দেখা দিচ্ছে। এই অবস্থায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেই জানিয়েছেন। এই বেআইনি কার্যকলাপের সঙ্গে বন রক্ষা কমিটির সদস্যদের একাংশ যুক্ত বলে ওই অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের পক্ষে চিন্তাহরণ মণ্ডল, প্রদীপ গরাইরা এই বেআইনি পাথর খাদানের সঙ্গে তৃণমূলের একাংশ যুক্ত দাবি করেন৷ বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এই খাদানটি চলছে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে মৌখিক জানিয়েও কোন কাজ হয়নি। পাথর খাদানে ডিনামাইট বিস্ফোরণের পরে দেউলী ও ডুমুরিয়া গ্রামের কাঁচা বাড়ি গুলি কেঁপে উঠছে। এমনকি বেশ কয়েকটি বাড়িতে ফাটল ধরেছে বলেও তাদের দাবি। একই সঙ্গে পাথর বোঝাই ভারি লরি যাতায়াতের ফলে গ্রামের রাস্তাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

বিজেপি নেতা সুজিত অগস্তি এই বেআইনি পাথর খাদানের সঙ্গে তৃণমূলের বেশ কয়েক জন ব্লক ও পঞ্চায়েত স্তরের নেতা যুক্ত দাবি করেন৷ বলেন, প্রশাসনের নাকের ডগায় এই ঘটনা ঘটছে। সব জেনে বুঝেও চুপ চাপ। বিজেপি কর্মীরা এই বেআইনি পাথর খাদান বন্ধে আজ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে এই বেআইনি পাথর খাদানের সঙ্গে কেউ যুক্ত নয় দাবি করা হয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতা জীতেন গরাই এর দাবি, তারা যখন ছোটো তখন থেকে সিপিএম এই খাদান চালাচ্ছে। একই সঙ্গে এখন সিপিএম নেতা রামচরণ বাউরী সরকারি জমিতে ওই খাদান চালাচ্ছেন বলে দাবি করেন।

সিপিএম নেতা রামচরণ বাউরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাই তাঁর প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে এই বিষয়ে বনাধিকারীক ভাস্কর জেভি অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, তদন্ত করে দেখা হবে। যদি বনদফতরের জমিতে কেউ বা কারা খাদান চালায় তবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।