নয়াদিল্লি: করোনা রুখতে দেশজুড়ে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদী সরকার। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ল দেশের সাধারণ মানুষ। ২১ দিন লকডাউনের খবর প্রকাশের পরেই মুদিদ্রব্য ও প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে দ্রুত বাজার ও দোকানমুখী হলেন মানুষজন।

এদিন ভাষণে মোদী বলেন, ২১ দিন দেশজুড়ে লকডাউন জারি থাকবে। তিনি বলেছেন, ‘বাড়ির বাইরে লক্ষণরেখা টেনে দিন।’ দেশের প্রত্যেকটা গ্রাম, প্রত্যেকটা গলিতে জারি থাকবে লকডাউন। সতর্ক করে তিনি বলেন, অনেক উন্নত দেশও এই ভাইরাসের কাছে হার মেনেছে। অনেক প্রস্তুতি নিয়েও একে থামানো সম্ভব হয়নি।

মোদী তাঁর ভাষণে সামাজিক দূরত্ব রাখার কথা বললেও, তাঁর ভাষণ শেষ হওয়ার আগেই দলে দলে লোক গিয়ে ভিড় জমাতে শুরু করেন মুদি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দোকানে। তবে সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে মুদি দোকানগুলিতেই।

ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে এমন একাধিক ভিডিও। যেখানে দেখা যাচ্ছে, সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখেই লোকজন রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছে।

যদিও নিজের ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী মোদী আশ্বাস দেন, প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলি অব্যাহত থাকবে। সরবরাহের অভাব যাতে না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য রাজ্যের সঙ্গে কেন্দ্র কাজ করছে বলেও জানান তিনি। সাধারণ মানুষের এই অবস্থা দেখেই ভাষণের পর প্রধানমন্ত্রী টুইট করে জানান, “আতঙ্কিত হওয়ার কোনও দরকার নেই।”

লকডাউন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটাও এক ধরনের কার্ফু। কেউ বাড়ি থেকে বেরতে পারবেন না। এভাবেই করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচানো সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘২১ দিন নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে ২১ বছর পিছিয়ে যেতে হবে আপনাদের।’ মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে জারি হচ্ছে এই লকডাউন। মোদী বলেন, ‘হাত জোড় করে প্রার্থনা করছি। আপনি সেইসব লোকের জন্য ভাবুন, যারা নিজেদের কর্তব্যের জন্য প্রাণের মায়া ত্যাগ করে লড়াই করছেন।’