ঢাকা: শেখ হাসিনা সরকার যতই উন্নয়ণের বার্তা শোনান তাতে দেশের দুর্দশা ঢাকবে না৷ দেশে বেকার বাড়ছে আর প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত থেকে এসে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার রোজগার করে যাচ্ছে৷ এমনই ভাষায় সরকারকে কড়া আক্রমণ করলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর৷

তিনি বলেন, দেশের বেকার যুবকরা চাকরি পাচ্ছে না। অথচ একই সময়ে আজকে ভারত থেকে কর্মীরা এসে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার নিয়ে যাচ্ছে। ঢাকার লেডিস ক্লাবে ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কেন্দ্রীয় সম্মেলন-২০১৯ উপলক্ষে ভাষণ দেন বিএনপির মহাসচিব৷ তাঁর ভাষণে ভারতীয় কর্মীদের বাংলাদেশ থেকে বিপুল রোজগারের প্রসঙ্গ থাকায় কূটনৈতিক মহলে ছড়িয়েছে গুঞ্জন৷ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান অন্যান্যরা৷

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, উন্নয়ন পেতে হলে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি মেনে নিতে হবে, অর্থাৎ মূল্য দিতে হবে। অবশ্যই আমার জানি ডেভেলপমেন্টের একটা মূল্য দিতে হয়। কিন্তু সেই মূল্য কাকে দিতে হয়? সেই মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষের উন্নয়নের জন্য। কিন্তু আমরা খুব ভালোভাবে দেখছি, উন্নয়নের কথা বলে জনগণের পকেট থেকে যে টাকা বের করে নেওয়া হচ্ছে, তা ব্যয় হচ্ছে শুধু গুটিকয়েক ক্ষমতাসীন দলের সুবিধার জন্য।

গত জাতীয় নির্বাচনে বিপুল রিগিংয়ের প্রসঙ্গ তুলে বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলেই জানিয়েছেন তিনি৷ আরও বলেছেন, এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে হটাতে হলে জনগণের ঐক্যের খুব প্রয়োজন। সমস্ত দলমতকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যারা দেশের গণতন্ত্রকে বিনষ্ট করছে তাদের পরাজিত করতে হবে।

সম্প্রতি শেখ হাসিনার উপর হওয়া একটি হামলার ঘটনায় দোষীদের ফাঁসির সাজা দিয়েছে আদালত৷ এই প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, ১৯৯৪ সালে পাবনায় তৎকালীন বিরোধী নেত্রী শেখ হাসিনার ওপর হামলা হয়। কিন্তু কেউ হতাহত হয়নি। আমরা যে কোনও হামলার প্রতিবাদ ও নিন্দা করি। কিন্তু যেখানে কোনও হতাহত হয়নি, সেখানে ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ২৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১৩ জনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের শাস্তি দিয়েছে। এটাই হচ্ছে বিচার বিভাগের অবস্থা।