ওয়াশিংটন : অচেনা শত্রু করোনার দাপটে আতঙ্কিত গোটা বিশ্ব। প্রতিদিনই মৃত্যুর সঙ্গে মানুষ বনাম ভাইরাসের লড়াই চলছে। কেউ জিতছে, কেউবা জীবন যুদ্ধে মানছেন হার। পৃথিবীর এমন জটিল অসুখে চারিদিকে শুধুই ত্রাহিত্রাহি রব। কবে মানব জীবন আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে তা এখন বলা বিষম দায়।

এমন কঠিন পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসের জন্মস্থান চিন যখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে, তখন মারণ এই ব্যাধির সঙ্গে বাকি বিশ্বের মানুষের কঠিন লড়াই চলছে। আর চিন, ইউরোপ, ইরানের পর যুদ্ধক্ষেত্র এখন ট্রাম্পের দেশ আমেরিকা। মারণ করোনার দাপটে এখনও পর‍্যন্ত মার্কিন মুলুকে প্রায় ৭ হাজার লোক মারা গিয়েছেন। প্রতিদিনই মৃত্যু মিছিল অব্যাহত ট্রাম্পের দেশে।

আর এমন অবস্থায় ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। যা হতবাক করে দিয়েছে গোটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে।

জানা গিয়েছে, মারণ করোনা গত বছর ডিসেম্বর মাসের শেষদিকে চিনের উহান প্রদেশে প্রথম ছড়িয়ে পড়েছিলো। আর সেই সময় উহান প্রদেশ সহ চিনের বিভিন্ন অংশ থেকে প্রায় ৪ লক্ষ ৩০ হাজার মার্কিন নাগরিক বিমানে করে আমেরিকা এসেছিলেন। ফলে চিন সেই সময় ভাইরাস সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য চেপে যাওয়ায় এই ৪ লক্ষ ৩০ হাজার মার্কিন নাগরিকদের কোনও রকম পরীক্ষা নিরিক্ষা ছাড়াই দেশে প্রবেশ করানো হয়েছে। ফলে এমন অবস্থায় গভীর সংকটে ট্রাম্পের দেশ আমেরিকা। রবিবার আমেরিকার নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত তথ্যে নতুন এই খবর জানা গিয়েছে।

আরও জানা গিয়েছে, গত ডিসেম্বর মাসে প্রায় ১৩০০ বিমান উহান থেকে আমেরিকার বিভিন্ন স্টেটের যাত্রীদের নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবতরণ করেছিলো। যাদের মধ্যো লস আঞ্জেলস, সান ফ্রান্সিকো, নিউ ইয়র্ক সহ আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্তের বসবাসকারী বাসিন্দারা রয়েছেন।

এছাড়াও গত ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের মধ্যবর্তী সময় পর‍্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার মানুষ চিন ও আমেরিকা এই দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত করেছে। যদিও তখনও ভাইরাস সংক্রান্ত গোটা বিষয়টি চিন বিশ্ববাসীর সামনে পরিষ্কার করে তুলে না ধরায়, আন্তর্জাতিক পরিবহণের ক্ষেত্রে তখনও কোনও কড়া পদক্ষেপ নেয়নি আমেরিকা। ফলে সেই সময় অর্থাৎ জানুয়ারি মাস পর‍্যন্ত আমেরিকায় আগত বিমান যাত্রীদের সেইভাবে কোনও থার্মাল স্ক্রিনিং বা অন্য কোনও ধরনের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরীক্ষা করা হয়নি। যা নিয়ে এখন ঘোরতর চিন্তায় ট্রাম্প প্রশাসন।

এছাড়া সেই সময় প্রায় ৪৩হাজার যাত্রী সরাসরি উহান থেকে আমেরিকায় এসেছে।

মার্কিন স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর, গত জানুয়ারিতে আমেরিকায় আগত ওই ৪ লক্ষ ৩০ হাজার যাত্রীদের ডাটা সংগ্রহ করে তাঁদের খুঁজে বের করার কাজ শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

শুধু তাই নয়, সরকারি সূত্রে খবর, এই কয়মাসে চিন ও আমেরিকার মধ্যে যাতায়াতকারী বিমানের ৬০% চিনের এয়ার লাইন্স। যে গুলি করে আমেরিকা সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের যাত্রী পরিবহন করা হয়েছে।

এদিকে, গত ২৪ ঘন্টাতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু হয়েছে দেড় হাজারের বেশী নাগরিকের। গোটা বিশ্বে ১১ লক্ষেরও বেশি মানুষ সংক্রামিত। মারা গিয়েছে ৬০ হাজারের উপরে। এই কয়দিনে সবথেকে বেশি মৃত্যু হয়েছে ইতালিতে। সেখানে প্রান হারিয়েছেন ১৪ হাজারের বেশি মানুষ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইউরোপের আরও এক দেশ স্পেন। ১১,৭০০ উপরে মানুষ প্রান হারিয়ে সেখানে। কিন্তু মারণ এই ভাইরাস যেভাবে ছড়াছে তাতে মৃত্যুর নিরিখে চিন সহ অন্যান্য দেশগুলিকে ছাপিয়ে যেতে পারে আমেরিকা। এমনটাই আশঙ্কা মার্কিন প্রশাসনের।