নয়াদিল্লি: ভারতে ক্রমেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ভয়াল করোনা। রবিবার সকাল পর্যন্ত গোটা দেশে ৩১১৩ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মারণ ভাইরাসের থাবায় ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে ৭৭ জনের। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতে মোট করোনা আক্রান্তের ৪১%-এর বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। তবে করোনা ভাইরাসের আক্রমণে দেশে ৬০ বছর বা তার অধিক বয়সের ব্যক্তিদেরই বেশি মৃত্যু হচ্ছে।

শনিবারই দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্তদের একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। সেই পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে গত ৩০ জানুয়ারি থেকে শনিবার পর্যন্ত ২৯০২টি কোভিড-19 পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রক আরও জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত দেশের ৪১ থেকে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত ৩৩% বাসিন্দা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ওই পরিসংখ্যান অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত ৬০ বছরের অধিক ১৭% প্রবীণ নাগরিক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

যদিও দেশে করোনায় মৃতদের নিরিখে প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যাই বেশি। তার একটি কারণও তুলে ধরেছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। দেখা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত দেশে করোনায় মোট মৃত ৭৭ জনের মধ্যে ৬৮ জনই প্রবীণ নাগরিক। প্রবীণ নাগরিকদের একটি বড় অংশ সুগার, ব্লাড প্রেসার, হাইপারটেনশন, হৃদযন্ত্রজনিত সমস্যা, লিভারজনিত সমস্যা-সহ একাধিক শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় ভোগেন।

প্রবীণ নাগরিকদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষেরই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। সেই কারণেই মারণ ভাইরাস একবার শরীরে ঢুকলেই সংক্রমণ গোটা দেহে ছড়িয়ে পড়ছে। আগে থেকেই একাধিক রোগে আক্রান্ত থাকায় করোনার সংক্রমণের মোকাবিলা করা অনেক ক্ষেত্রেই কষ্টসাধ্য হচ্ছে প্রবীণদের পক্ষে। সেই কারণেই মারণ ভাইরাসের থাবায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রাণ হারাচ্ছেন প্রবীণরা।