ওয়াশিংটন: মার্কিন সেনাদের বিশালসংখ্যক কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিরাট চুক্তি করেছে আমেরিকা। ব্রিটিশ ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে ৩৪২ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি ঘোষণা করেছে পেন্টাগন।

জানানো হয়েছে, ব্রিটিশ কোম্পানি গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন একমাত্র কোম্পানি যাদের সঙ্গে এই চুক্তি করা সম্ভব ছিল। “আমেরিকা এবং বাইরের মিলিটারি জায়গাগুলিতে এবং সেনাতে কর্মরতদের সাহায্য করতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে জিএসকে”।

পেন্টাগন জানিয়েছে, “উত্তর ক্যারোলিনায় এই কাজ করা হবে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ তারিখের মধ্যে এই কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে”। পাশাপাশি এও জানানো হয়েছে, মার্কিন সেনার তত্ত্বাবধানে এই কাজ সম্পূর্ণ হবে।

এদিকে, ফিনান্সিয়াল টাইমস পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী আমেরিকান সংস্থা মর্ডেনা তার ভ্যাকসিনের একটি কোর্সের জন্য ৩০০০ থেকে ৪৫০০ টাকা অবধি দাম ঠিক করার পরিকল্পনা করেছে। মর্ডেনা ভ্যাকসিনের প্রস্তাবিত দাম ফাইজার-এর ভ্যাকসিনের চেয়ে প্রায় ৮০০ টাকা বেশি।

অন্যদিকে ফাইজার ভ্যাকসিনটি ৫ কোটি মানুষকে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখনও এই ভ্যাকসিনের শেষ ধাপের পরীক্ষা বাকি, এই ধাপটি কার্যকর এবং নিরাপদ হিসাবে প্রমাণিত হলে তবেই ভ্যাকসিনটি বাইরে আসবে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, আমেরিকা ও অন্যান্য উচ্চবিত্তের দেশগুলির জন্য মর্ডেনা এই ভ্যাকসিনের দাম রাখছে ৩৭০০ থেকে ৪৫০০ টাকা। সংস্থার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য মার্কিন সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে গোপনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি এই ভ্যাকসিনের দাম নিশ্চিত করেননি।

রয়টার্সও জানিয়েছে, মর্ডেনার ভ্যাকসিনের দাম এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে মর্ডেনা যে এই ভ্যাকসিনটি লাভ রেখে বিক্রি করবে তা তাঁরা আগেই জানিয়েছিল। তবে জনসন অ্যান্ড জনসন লাভ না রেখে এই ভ্যাকসিনটি বিক্রি করার কথা বলেছে।

অন্যদিকে ব্রিটিশ সুইডিশ সংস্থা অ্যাস্ট্রাজেনকা প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ কোটি ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য একটি চুক্তি করেছে। এই চুক্তি অনুসারে আমেরিকাতে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের প্রতি ডোজের দাম হতে চলেছে ৩০০ টাকা।

এছাড়া ভ্যাকসিন প্রস্তুত করতে আমেরিকা মর্ডেনা-র পাশে রয়েছে। কোম্পানিকে ৭৪৭৬ কোটি টাকা তহবিলও দান করেছে ট্রাম্প সরকার। সবমিলিয়ে করোনা বিধ্বস্ত আমেরিকাকে ফের স্বাভাবিক করতে তৎপর গোটা আমেরিকা এবং ট্রাম্প প্রশাসন। টানা চারদিন ১০০০ বেশি করোনায় মৃত্যু দেখেছে আমেরিকা।

পাশাপাশি, অর্থনীতিতে ব্যপক ধাক্কা দিয়েছে করোনা পরিস্থিতি। ইতিমধ্যেই ২০২০-তেই আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পিছিয়ে যাবে এমন আভাস দিয়েছে আমেরিকা। কারণ, মহামারীতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত আমেরিকা তাই এমন সিদ্ধান্ত বলেও বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।