লখনউ: ভোটের আগে বড় চমক। হিন্দু সাধুদের জন্য পেনশন প্রকল্পের কথা ঘোষণা করল যোগী আদিত্যনাথ পরিচালিত উত্তর প্রদেশ সরকার।

কুম্ভ মেলা চলাকালীনই এই পেনশনের বিষয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে যোগী প্রশাসন। খুব শীঘ্রই রাজ্য পেনশন স্কিমের অধীনে এই প্রকল্প চালু করা হবে বলে জানানো হয়েছে উত্তর প্রদেশ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে।

রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী বয়স ৬০ বছর হলেই পেনশন পাওয়ার অধিকারী হবেন হিন্দু সাধুরা। এর জন্য রাজ্য প্রশাসনের দফতরে নাম নথিভূক্ত করতে হবে। চলতি মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত নাম নথিভূক্ত করা যাবে বলে ওই রাজ্যের প্রশাসনিক দফতরের শীর্ষস্তর থেকে জানানো হয়েছে।

সাধুদের নাম নথিভূক্তকরণের জন্য রাজ্যের প্রতিতি জেলায় বিশেষ কার্যালয় খোলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়াগরাজে খোলা হয়েছে বিশেষ শিবির। কারণ এই মুহূর্তে কুম্ভ মেলা চলছে। সেই কারণে বহু সাধু এখন সেখানেই রয়েছেন। তাঁদের সুবিধার্থেই এই বিশেষ ব্যবস্থা করেছে যোগী সরকার।

খুব স্বাভাবিকভাবেই এই পেনশন প্রকল্প নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। যোগীর এই পদক্ষেপকে হিন্দু তোষণ বলে কটাক্ষ করেছে বিরোধী সমাজবাদী পার্টি। সপা প্রধান তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব বলেছেন, ভোটের আগে এই পদক্ষেপ শুধু হিন্দুদের তোষণের জন্য। এরপর যারা রামলীলায় অভিনয় করে তাদেরও পেনশন দেওয়া শুরু হবে।

যদিও বিজেপি শিবিরের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলিতে ধর্মের ভিত্তিতে ভাতা দেওয়ার রীতি চালু আছে বলেও সাফাই দিচ্ছে বিজেপি। সরকারি সূত্রের খবর বেশ কিছুদিন ধরেই এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তারপরই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশে দুর্গতদের জন্য পেনশনের ব্যবস্থা আছে। সাধারণত বিধবা মহিলা এবং শারীরিকভাবে বিকলাঙ্গদের এই পেনশন দেওয়া হয়ে থাকে। এতদিন পর্যন্ত রাজ্য পেনশন প্রকল্পের অধীনে মাসিক ৪০০ টাকা করে দেওয়া হতো উত্তরপ্রদেশের দুর্গতদের। সেই পেনশনের পরিমাণ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যোগী প্রশাসন। নয়া সিদ্দান্ত অনুসারে এবার থেকে দুর্গতেরা প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে পেনশন পাবেন।

এবার হিন্দু সাধুদেরকেও সেই পেনশন প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসার মতো বড় সিদ্ধান্ত নিল যোগী সরকার। বিরোধীরা আক্রমণ করলেও ভটের আগে এই সিদ্ধান্তে যে বিজেপি বাড়তি ফায়দা লাভ করবে তা বলাই বাহুল্য। রাম মন্দির নির্মাণ না হওয়ায় হিন্দু সাধুদের মনে যে ক্ষোভ জন্মেছিল তাও এই পেনশন দিয়ে কিছুটা প্রশমিত করার চেষ্টা করলেন যোগী।