কলকাতা: মোহনবাগানের পর এবার পিয়ারলেস কাঁটায় বিদ্ধ হল ইস্টবেঙ্গল। স্বাধীনোত্তর ভারতবর্ষে কলকাতার তিন বড় ক্লাব ব্যতিত কলকাতা লিগের শিরোপা একমাত্র রয়েছে ইস্টার্ন রেলের ট্রফি ক্যাবিনেটে। ১৯৫৮’র পর চলতি মরশুমে কি তিন প্রধানের বাইরে গিয়ে খেতাব ছিনিয়ে নিতে পারবে জহর দাসের পিয়ারলেস। সেটা সময় বলবে। কিন্তু সোমবার ঘরের মাঠে পিয়ারলেসের কাছে ০-১ গোলে হেরে লিগের লড়াইয়ে নিশ্চিতভাবে অনেকটাই পিছিয়ে পড়ল লাল-হলুদ। অন্যদিনে মোহনবাগানের পর এদিন ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে লিগ টেবিলে শীর্ষে উঠে এল বীমা কোম্পানির দলটি। ৬ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ১৩।

পিয়ারলেসের বিরুদ্ধে এদিন ফের একবার রোটেশন পদ্ধতিতে দলকে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে হাঁটেন কোচ আলেজান্দ্রো গার্সিয়া। সাদার্নের বিরুদ্ধে নামানো প্রথম একাদশে সাতটি পরিবর্তন আনেন তিনি। ইস্টবেঙ্গল মাঠে এদিন গোলশূন্য প্রথমার্ধ কার্যত নিষ্প্রভ বলা চলে। ২৪মিনিটে আনসুমানা ক্রোমার কাছে পিয়ারলেসকে এগিয়ে দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল বটে, কিন্তু বক্সের ভিতর থ্রু বল ধরে কমলপ্রীত ও গোলরক্ষক লালথুয়ামাওয়াইয়াকে পরাস্ত করলেও ব্যর্থ হন তিনি। লাইবেরিয়ান স্ট্রাইকারের ফাইনাল টাচ ঠিকঠাক না হওয়ায় এযাত্রায় রক্ষা পায় লাল-হলুদ রক্ষণ।

সুযোগ এসেছিল ইস্টবেঙ্গলের কাছেও। ৩৬ মিনিটে লালরিনডিকার কর্নার থেকে স্প্যানিশ স্ট্রাইকার মার্কোস এসপাদার হেড ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হয়। আরেকটি ক্ষেত্রে গোলের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েও ব্যর্থ হন গোয়ানিজ স্ট্রাইকার রোনাল্ডো অলিভিয়েরা।

দ্বিতীয়ার্ধে গোলের খোঁজে আলেজান্দ্রো মাঠে নামিয়ে দেন গোলের মধ্যে থাকা তাঁর দুই ছাত্র হাইমে কোলাডো ও বিদ্যাসাগর সিংকে। লাল-হলুদের খেলায় কিছুটা গতি আসে। কিন্তু ৬৫ মিনিটে খেলার গতির বিরুদ্ধে গিয়ে পেনাল্টি আদায় করে নেয় পিয়ারলেস। বক্সের মধ্যে পঙ্কজ মৌলাকে ফাউল করে বসেন কমলপ্রীত সিং। স্পটকিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন লাইবেরিয়ান ক্রোমা। এগিয়ে গিয়ে ম্যাচে আরও জাঁকিয়ে বসার ইঙ্গিত দেয় পিয়ারলেস। উলটোদিকে বিপক্ষের দাপুটে ফুটবলে অনেকটাই ব্যাকফুটে চলে যান বোরহা-কোলাডোরা।

ভাগ্য সহায় থাকলে ৭৮ ও ৭৯ মিনিটে ফের গোল পেতে পারত জহর দাসের দল। কিন্তু একটি ক্ষেত্রে পোস্ট ও আরেকটি ক্ষেত্রে ইস্টবেঙ্গলকে বাঁচিয়ে দেন গোলরক্ষক রালতে। পিছিয়ে থেকে ম্যাচের বাকি সময় সমতায় ফিরতে পারেনি লাল-হলুদ। ফলে ০-১ ব্যবধানে ফেরে চলতি লিগে দ্বিতীয় পরাজয় বরণ করে তারা। ম্যাচ শেষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ইস্টবেঙ্গল গ্রাউন্ড। বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রেফারিকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন ফুটবলাররা। ক্ষোভের আঁচ গিয়ে পড়ে গ্যালারিতেও। গ্যালারি থেকে উড়ে আসে জলের বোতল। শেষমেষ পুলিশি তৎপরতায় রেফারিদের মাঠ থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়।