দেবময় ঘোষ, কলকাতা: ‘পলিটিক্যাল স্ট্রাটেজিস্ট’ প্রশান্ত কিশোর এরাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রথের সারথী এখনও হননি। তাঁর আগেই সারথীকে বেসামাল করে রথ উলটে দেওয়ার ছক কোষে ফেলেছে বিজেপি।

বিজেপি এবং নরেন্দ্র মোদীর বহু জয়ের সেনাপতি প্রশান্তকে শুরুতেই ধরাশায়ী করতে রীতিমতো রাজনৈতিক স্লোগান তৈরি রাখছে বঙ্গের গেরুয়া শিবির। যদিও প্রশান্ত পর্দার আড়ালের খেলোয়াড়, কিন্তু তার উপস্থিতি তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকদের বাড়তি উৎসাহ কারণ হতে দিতে চায় না বিজেপি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসাবে সারা দেশ জুড়েই নাম ডাক প্রশান্তর। একসময় নরেন্দ্র মোদীর রথ ছুটিয়েছিলেন গুজরাটে। বলা হয় ২০১৪ সালের ‘মোদী ঝড়’ নাকি কন্ট্রোল রুমে বসে নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন প্রশান্তই। প্রশান্তর গুণমুগ্ধ কংগ্রেসও। পঞ্জাবে ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং সরকার তৈরিতে প্রশান্তের ভূমিকা ছিল। তা স্বীকার করেন কংগ্রেসই নেতারাই। পরে অবশ্য কংগ্রেস যায় দেখেছে উত্তর প্রদেশে কিভাবে পার্টি গেরুয়া ঝড়ের মুখে শূন্য হয়ে গিয়েছে। বাঁচাতে পারেনি প্রশান্ত। সম্প্রতি অন্ধ্র প্রদেশে ওয়াই এস আর কংগ্রেসকে জিতিয়ে এসেছেন প্রশান্ত। বিজেপির বক্তব্য, অমিত শাহর ‘স্ট্রাটেজি’র লড়াই করতে মমতা প্রশান্তকে কাজে লাগাতে চাইছেন। কিন্তু তিনি বুঝতে পারেননি, অমিত শাহ’র চোখের সামনেই কাজ করে এসেছেন প্রশান্ত।

বরং প্রশান্ত ইস্যুতে তৃণমূলকে আক্রমণের নতুন রাস্তা খুলছে বিজেপি। বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসুর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) নিজের দলের লোককে ভরসা করছেন না। বিহারের লোককে আনতে হচ্ছে (প্রশান্ত জন্মসূত্রে বিহারি) । ওর ভাষাও ‘আউট সাইডার। ‘ তাহলে আর কি করা যাবে।

বঙ্গ বিজেপির যা খবর, প্রশান্ত কিশোরকেই ইস্যু বানিয়ে প্রচার চলবে। খুব তাড়াতাড়ি কলকাতায় বিশাল কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উতরে যেতে এক বিহারি আউট সাইডার মমতার ভরসা – এইটাই বিজেপির আপাতত ইস্যু।

সায়ন্তনের কোথায়, হাতি ঘোড়া গেল তল, প্রশান্ত বলে কত জল। লোকে মোদীজির ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টরি মনে রেখেছেন। কিন্তু অখিলেষের ল্যান্ডস্লাইড হারটাও মনে রেখেছেন , যা প্রশান্তর পরামর্শেই হয়েছিল।