মালদহ: একসময় সন্ত্রাস কবলিত মোজমপুর এখন দুষ্কৃতীহীন। যার ফলে এলাকার মানুষের সচ্ছল জীবন যাপন করছে। এক সময় যেখানে প্রতিদিন বোমা ও গুলির আওয়াজে জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল গ্রামবাসীদের। এখন সেখানে শান্তির হাওয়া বইছে। বন্ধ থাকতো স্কুল, গ্রাম পঞ্চায়েত দফতর, দিনের পর দিন অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিল গ্রামবাসীরা। এখন জীবন চলছে সুস্থ অবস্থায়।

মালদহর কালিয়াচকের মোজমপুর বরাবরই রাজনৈতিক সংঘর্ষের জন্য খবরের শিরোনামে থাকতো এই এলাকা। বাম আমলে প্রতিনিয়ত চলছে গুলি বোমা। এখন সে সব বন্ধ৷ মালদহর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে কিছুটা দূরত্বে মোজামপুর গ্রাম। এলাকার বেশিরভাগ মানুষই শ্রমিক সরবরাহ ও বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আবার বড় অংশের মানুষ আম ও লিচু চাষের সঙ্গে যুক্ত।

বরাবরই কংগ্রেস সিপিএম সংঘর্ষ রাজ্যে পট পরিবর্তনের পর তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেস সংঘর্ষে দিনের পর দিন উত্তাল হয়ে থাকত এলাকা। গত কয়েক বছরে প্রায় সংঘর্ষে ৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহতের সংখ্যা চার গুণ। মোজমপুর পার্শ্ববর্তী নারায়ণপুর ইমাম জায়গীর এলাকায় প্রতিদিন দাপিয়ে বেড়াত দুষ্কৃতীরা।

স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান, দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য তাদের জীবন নাকাল হয়েছিল। যার ফলে এলাকা থেকে বহু মানুষ অন্য জায়গায় সরে গিয়েছিল। বোমাবাজি ও গুলির লড়াইয়ের জেরে বন্ধ থাকতো স্থানীয় স্কুল গ্রাম পঞ্চায়েত দফতর ও ব্যাংক। ফলে দৈনন্দিন জীবনযাপন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। কেউ প্রতিবাদ করলেই তাকে দুষ্কৃতীদের হেনস্তার শিকার হতে হত। গত বিধানসভা ভোটের পর কঠোর ব্যবস্থা নেয় বর্তমান সরকার। গ্রেফতার করা হয় এলাকার একাধিক কুখ্যাত দুষ্কৃতীদের। যার ফলে এলাকায় ফিরে আসে শান্তি।

পড়ুন:  জালিয়ানওয়ালাবাগের গণহত্যার প্রতিবাদে গান্ধীজিকে পাশে পাননি রবীন্দ্রনাথ

এলাকার বাসিন্দা জাফর শেখ বলেন, একটা সময় রাজনৈতিক সংঘর্ষের ফলে এই এলাকার গ্রামের মানুষেরা আতঙ্কিত থাকত। পরিবারের লোক বাইরে বের হলে সঠিকভাবে বাড়ি ফিরবে কিনা সেই নিয়ে চিন্তায় থাকতো পরিবারের সদস্যরা। কেন না দুষ্কৃতীদের মূল লক্ষ্য ছিল এলাকাকে নিজেদের অধীনে রাখা। যার ফলে দিন হোক আর রাত সব সময় একটা সন্ত্রাসের পরিবেশ থাকতো।

তবে বর্তমানে তা অনেকটাই কমে গিয়েছে। যার ফলে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নতি তো বটেই পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার মান যেমন বেড়েছে তেমনই এলাকার চরিত্র বদলে গিয়েছে। এখন মানুষ সচ্ছলভাবে চলাফেরা করতে পারছে। আমরা চাই এলাকায় যে সমস্ত কাজ হয়নি সেই সমস্ত কাজ করা হোক।

পড়ুন: শুক্রবার ভালো যাবে না মন্দ জানাবে রাশিফল

দক্ষিণ মালদহ কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ডাক্তার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, এই এলাকাগুলিতে একসময় দুষ্কৃতীরা বন্দুক ও বোমা হাতে সন্ত্রাস করত। বর্তমান রাজ্য সরকার তা দৃঢ়তার সঙ্গে পদক্ষেপ নিয়েছে। আর যার ফলে এলাকার মানুষ নিজস্ব ভঙ্গিতে চলাফেরা করতে পারছে। এখন আর এখানে বোমাবাজি ও গুলি লড়াই হয় না। মানুষ এখন উন্নয়নের পাশে রয়েছে। তাই মানুষ বুঝেছে ক্ষমতার পরিবর্তন দরকার। সেই কারণেই মানুষ আমাদের পাশে থেকে ভোটে জয়ী করবে।

বিজেপি প্রার্থী শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী বলেন, পঞ্চায়েতে যেভাবে সন্ত্রাস হয়েছে তাতে এখনও মানুষ আতঙ্কিত। এখন সমস্তটা নির্বাচন কমিশনের হাতে। কেন না গ্রামের মানুষ সহজ সরল। তাই মানুষকে ভুল বুঝিয়ে বিপথে চালিত করেছে বিরোধী দলগুলি। ভোটে জয়ী হয়ে এই এলাকার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই আন্দোলন চালিয়ে যাব।