সঞ্জয় কর্মকার,বর্ধমান: আউশগ্রাম থানায় হামলার ঘটনায় ধৃত তৃণমূল কাউন্সিলর চঞ্চল গড়াইকে পুলিশ তাদের হেফাজতে নিল। তিনি গুসকরা পুরসভার প্রাক্তন চেয়্যারম্যান৷ বর্ধমান আদালতের সামনে প্রতিক্রিয়া তিনি জানান, তৃণমূল করি বলে লজ্জা হচ্ছে৷  পুলিশ তার সঙ্গে অভব্য আচরণ করেছে বলেও পালটা অভিযোগ করেন তিনি৷  চঞ্চল বাবুর  মন্তব্যে জেলা তৃণমূল কংগ্রেস মহল সরগরম৷

আউশগ্রামে এই হামলার ঘটনায় সোমবার গুসকরায় প্রতিবাদ সভায় আসছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। জানা গেছে,  অধীর চৌধুরীর উপস্থিতিতে চঞ্চল গড়াই অনুগামী কিছু তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী, নেতা দল ছেড়ে জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন৷ ফলে আউশগ্রাম নিয়ে ক্রমশই রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে উঠেছে।

ধৃত তৃণমূল নেতার ভাইয়ের স্ত্রী ও জেলা কংগ্রেস নেত্রী জোৎস্না গড়াইয়ের অভিযোগ, চঞ্চলবাবুকে দল থেকে সরাতে অনেকদিন ধরেই গোষ্ঠীবাজি চলছিল। এদিন তা আরও ন্যক্কারজনকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, সম্প্রতি চঞ্চলবাবুর হার্টের অপারেশন এবং মাথাতেও অপারেশন হয়েছে। তিনি অসুস্থ। তা সত্ত্বেও তাকে টেনে হেঁচড়ে পুলিশ নিয়ে এসেছে।

আরও পড়ুন: ভারি বুটের শব্দে থমকে গিয়েছে প্রাণচঞ্চল আউশগ্রাম

শনিবার বর্ধমানের আউশগ্রাম থানায় হামলা চালানো, অগ্নি সংযোগ সহ পুলিশ কর্মীদের মারধরের ঘটনায় পুলিশ স্থানীয় দাপুটে তৃণমূল নেতা চঞ্চল গড়াইকে  গ্রেফতার করেছে৷  ঘটনার পিছনে তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে বলেই দলের একাংশের অভিযোগ। এই হামলার ঘটনায় গ্রেফতার মোট ১০ জন। এরা প্রত্যেকেই স্থানীয় তৃণমূল কর্মী বলে পরিচিত। রবিবার ধৃতদের বর্ধমানের সিজেএম আদালতে তোলা হয়৷ ভারপ্রাপ্ত বিচারক বিনোদ কুমার মাহাতো পুলিশের আবেদন মেনে চঞ্চল গড়াই, সেখ জহিরউদ্দিন এবং লালন সেখকে ২দিনের পুলিশ হেফাজত এবং বাকিদের আগামী ১০ তারিখ পর্যন্ত জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

চঞ্চল গড়াইয়ের আইনজীবী তথা বর্ধমান বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সদন তা জানিয়েছেন, পুলিশ মিথ্যা অভিযোগ এনেছে৷ পাশাপাশি তিনি জানান,  সিপিএমের দুর্গ আউশগ্রামের বুক থেকে সিপিএমকে হঠাতে চঞ্চল গড়াই এগিয়ে আসেন। মূলত তাঁর নেতৃত্বে ২০০৯ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গুসকরা পুরসভা সিপিএমের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয়। পুরপতি হন চঞ্চল গড়াই।
আউশগ্রাম থানার এসআই সঞ্জয় রায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তৃণমূল নেতা চঞ্চল গড়াই সহ ধৃতদের বিরুদ্ধে সরকারী কর্মীদের মারধর, মহিলা পুলিশ কর্মীদের শ্লীলতাহানি, সরকারী সম্পত্তি নষ্ট , বেআইনি জমায়েত, মারাত্মকভাবে জখম করা সংক্রান্ত একাধিক ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে৷

আইনজীবী সদন তা আরও জানিয়েছেন, আউশগ্রাম উচ্চবিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির সভাপতি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুলিশ মারধর করে৷ তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন চঞ্চল গড়াই৷ কিন্তু পুলিশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকেই গ্রেফতার করল।
চঞ্চল গড়াইয়ের দুই মেয়ে দেবযানী ও শর্বাণী জানিয়েছেন, শনিবার রাত্রে তার অসুস্থ বাবাকে বাড়ি থেকে পুলিশ গালি গালাজ করে তুলে নিয়ে আসে। পুলিশ জানায়, নবান্ন থেকে নির্দেশ এসেছে তাই তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, কোনও মহিলা পুলিশ ছাড়াই তাদের বাড়িতে ঢোকে পুলিশ। ছিল না কোনো ওয়ারেন্টও। চঞ্চল গড়াইয়ের গ্রেফতারের ঘটনায় গুসকরা পুরসভার পুরপতি বুর্ধেন্দু রায় জানিয়েছেন, আইন আইনের পথেই চলবে।

চঞ্চলবাবুর গ্রেফতারের ঘটনায় গোটা আউশগ্রামে রবিবার সকাল থেকেই চাপা অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। দলেরই একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ক্রমশই বাড়ছে। শুধু চঞ্চল গড়াই নন, একইসঙ্গে পুলিশ সিপিএমের গুসকরা জোনাল সম্পাদক সুরেন হেমব্রমকে বাড়ি থেকে শনিবার তুলে নিয়ে আসলেও রবিবার তাকে আদালতে তোলা হয়নি। এমনকি তাকে কোথায় রাখা হয়েছে তাও খোলসা করেনি৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

জীবে প্রেম কি আদৌ থাকছে? কথা বলবেন বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞ অর্ক সরকার I।