নয়াদিল্লি: ভারতে বেশ অনেকদিন ধরে ব্যবসা করছে পেটিএম। বলা যেতে পারে অন্যান্য মানি ট্রানজাকশন অ্যাপ আসার আগে থেকেই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল এই পেটিএম। ভারতে এই মুহূর্তে পেটিএমের প্রচুর গ্রাহক রয়েছে। কিন্তু এবার তাঁদের সাবধান হওয়ার সময় এসেছে।

দিল্লি নিবাসী রঞ্জন নামে এক ব্যক্তি বহুদিন ধরেই পেটিএম ব্যবহার করছেন। সম্প্রতি তিনি একটি ফোন পান। ফোনের ওপার থেকে তাঁকে জানানো হয় পেটিএমের কাস্টমার কেয়ার থেকে তাঁকে ফোন করা হয়েছে পেটিএম KYC আপডেট করার জন্য। আসলে ফোনটি এসেছিল একটি প্রতারণা সংস্থা থেকে। বেশ কিছুক্ষণ ফোনে কোথা বলার পর রঞ্জনকে একটি লিঙ্ক পাঠানো হয় এবং বলা হয় KYC আপডেট সম্পূর্ণ করতে ওই লিঙ্কে ক্লিক করতে।
রঞ্জন লিঙ্কে ক্লিক করতে ঘটে বিপদ। লিঙ্কে ক্লিক করতেই তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে নেওয়া হয় ২৮,০০০ টাকা। রঞ্জনের দাবি এরপর পুলিশ বা পেটিএমের থেকে কোনও সহায়তা তিনি পাননি।

প্রায় একইরকম ঘটনা ঘটেছে গাজিয়াবাদের নীতিন ত্যাগীর সঙ্গে। তাঁর কাছেও পেটিএম KYC আপডেট করার জন্য একটি ফোন আসে এবং লিঙ্ক পাঠানোর পর তাতে ক্লিক করারা সঙ্গে সঙ্গে তুলে নেওয়া হয় ২১০০ টাকা। তাঁর ক্ষেত্রে প্রথমে তোলা হয় ১০০ টাকা ও পরে ফের তোলা হয় ২০০০ টাকা। এরপর নীতিন বাবু পেটিএমে একটি অভিযোগ দায়ের করেন কিন্তু পেটিএম তাঁকে জানায় তাঁরা কোনো ফোন করেনি। তবুও পেটিএম নীতিন ত্যাগীর এই অভিযোগ নেয়।

শুধু দুটি নয়। সাড়া দেশ জুড়ে ঘটছে অসংখ্য এমন ঘটনা। যার জেরে বহু কষ্টার্জিত টাকা মুহূর্তের মধ্যে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ এই প্রতারকদের খোঁজ চালাচ্ছে।

মনে রাখুন, এটা স্মার্ট অনলাইন ওয়ার্ল্ড। নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে নিজের নানান ব্যক্তিগত তথ্য যেমন সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করবেন না, তেমনই অজানা লোককে নিজের মূল্যবান সময়ও দেবেন না।

দিল্লির সাইবার ক্রাইম বিশেষজ্ঞ পবন দুগাল জানিয়েছে, এই ধরণের প্রতারণার ক্ষেত্রে সাধারোন্ত নানান অফার বা নানান প্রয়োজনের কথা বলে একটি লিঙ্কে ক্লিক করতে বলা হয়। ওই লিঙ্কটিই আসলে একটি ফাঁদ। যেই লিঙ্কে ক্লিক করা হয়, সঙ্গে সঙ্গে আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব হয়ে যাবে টাকা। পাশাপাশি লিঙ্কে ক্লিক করা মাত্রই আপনার নানান ব্যক্তিগত তথ্য যেমন আধার, প্যান কার্ডের বিস্তারিত পুরোটাই পেয়ে যাবে প্রতারকরা। যার ফলে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে তাঁদের কোনও অসুবিধাই হবে না।

সাইবার ক্রাইম বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই ধরণের বিপদ থেকে এড়িয়ে চলতে এমন ফোনে আবেগতাড়িত হয়ে কোনও কাজ করবেন না। সরাসরি ব্যাংকে গিয়ে যোগাযোগ করাই শ্রেয়। আর কোনও অজানা লিঙ্কে ক্লিক করতে তো বারবারেই বারণ করছেন বিশেষজ্ঞরা। আপনার একটু সতর্কতা বাঁচিয়ে দিতে পারে আপনার জমানো টাকা। তাই সতর্ক থাকুন।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ