কলকাতা:  সরকারি কর্মীদের জন্য খুশির খবর ৷ কারণ নবান্ন সূত্রে খবর অবিলম্বে জমা পড়তে পারে এ রাজ্যে ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপরিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে নবান্নে যান বেতন কমিশনের চেয়ারম্যান অভিরুপ সরকার। সেখানে গিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন এদিন৷

এদিনের বৈঠকে সেখানে অন্যান্যদের মধ্যে হাজির ছিলেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র এবং স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় ঘণ্টা খানেক ধরে বৈঠক চলে যাতে রাজ্য সরকারি কর্মী শিক্ষকদের বেতনবৃদ্ধি এবং অবসরপ্রাপ্তদের পেনশনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। তার ফলেই সুখবরের আশা জাগায়। জানা গিয়েছে, দ্রুত রাজ্য সরকারকে তাদের সুপারিশ পেশ করবে বেতন কমিশন।

ষষ্ঠ বেতন কমিশন গঠিত হয় ২০১৫ সালে। তার মেয়াদ ছিল ছ’মাস। কমিশনের নেতৃত্বে ছিলেন অভিরূপ সরকার। কিন্তু প্রতি বারই মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার সময়ে এসে সুপারিশ জমা দিতে পারেনি কমিটি। তার জেরে দফায় দফায় বাড়তে বাড়তে প্রায় সাড়ে তিন বছরে এসে দাঁড়ায় ষষ্ঠ বেতন কমিশনের বয়স। লোকসভা ভোটের পরে আরও সাতমাস মেয়াদ বাড়ানো হয়৷ এ বার সেই মেয়াদ আরও এক দফা বেড়ে যাওয়ায় সব মিলিয়ে চার বছর এক মাস হয়ে গেল।

প্রসঙ্গত বার বার এভাবে বেতন কমিশনের মেয়াদ বাড়িয়ে রাজ্য সরকার যেভাবে নতুন বেতন কাঠামো চালু করা ঠেকিয়ে রাখছে তাতে এমনিতেই ক্ষোভ বাড়ছে সরকারি কর্মীদের৷ তাছাড়া রয়েছে ডিএ কম দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ ৷ তাদের এই ক্ষোভ প্রতিফলিত হয়েছে সম্প্রতি লোকসভা নির্বাচনে ৷ দেখা গিয়েছে ৪২টি কেন্দ্রে মধ্যে ৩৯ কেন্দ্রেই পোস্টাল ব্যালতে পিছিয়ে গিয়েছে শাসক তৃণমূল৷ আর এই পোস্টাল ব্যালটে সাধারণত ভোটের কাজে নিযুক্ত সরকারি কর্মীরাই ভোট দিয়ে থাকেন৷

অতএব ডিএ এবং পে কমিশন নিয়ে সরকারি কর্মীদের রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ওই পোস্টাল ব্যালটে প্রতিফলিত হয়েছে বলেই মনে করছে বিভিন্নমহল৷ আর এই ফল খারাপ হতে দেখে অনেকে অবশ্য আশা করেছিলেন এবার হয়তো রাজ্য সরকার সরকারি কর্মীদের নিজেদের অনুকূলে টানতে দ্রুত ষষ্ঠ বেতন কমিশনের ব্যবস্থা করবে৷ কিন্তু লোকসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর মে মাসে ফের তাদের হতাশ করে রাজ্য সরকার৷
তবে এই বেতন কমিশনের মেয়াদ বৃদ্ধির কারণ নিয়েও বিতর্ক দেখা দিয়েছে ৷ কমিশন মেয়াদ বাডা়তে চেয়েছিল বলে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করলেও কমিশনের চেয়ারম্যান প্রথমে মেয়াদ বাড়াতে বললেও বললেও পরে রাজ্য সরকারই নাকি তা বাড়াতে চেয়ছিল বলে বিতর্ক দানা বাধে৷