নয়াদিল্লি: বছরে দু’কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা পূরণ হয়নি৷ উল্টে নোটবন্দি এবং জিএসটি চালুর জেরে কাজ হারিয়েছেন অনেকে। পাশাপাশি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের মাধ্যমে শিল্পবিকাশের কথা বলা হলেও নতুন লগ্নি তেমন আসেনি ৷ অন্যদিকে বহু কারখানা বন্ধ অথবা ধুঁকছে ৷ আবার ব্যাংকগুলিতে অদেয় ঋণের বোঝা পরিস্থিতি জটিল করেছে৷ ফসলের দাম ঠিক মতো না পেয়ে কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ৷ শেয়ারবাজার ফুলে ফেপে উঠলেও দেশের অর্থনৈতিক অন্যান্য সূচকগুলি এদেশের জন্য তেমন ভাল কোনও ইঙ্গিত দেয়নি৷

কিন্তু ব্যালটে মানুষের তেমন ক্ষোভের প্রতিফলন তো দেখা গেল না বরং মোদীকে ফিরিয়ে আনতে দুহাত ভরে আশীর্বাদ করতে দেখা গেল ভোটারদের৷ স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে -এবারে নির্বাচনে মোদীর যেভাবে জয় হল তা দেখে মনে হচ্ছে না অর্থনৈতিক দিক থেকে কোনও রকম অসন্তোষ রয়েছে জনগণের মধ্যে৷ নাকি ক্ষোভ থাকলেও মোদী এমন ভাবে নির্বাচনী প্রচারে নেমেছিলেন তাতে সেই সব ক্ষতে মলম লাগিয় দিতে সক্ষম হয়েছেন৷ আর মোদীর দেশপ্রেম এবং জাতীয়তাবাদের জিগির জনগণকে অর্থনৈতিক দুঃখ কষ্ট ভুলিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে ৷

বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা যেহেতু বৃদ্ধির হার , কর্ম সংস্থান ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ইত্যাদির সাপেক্ষে সরকার খুব ভাল জায়গায় নেই তা বুঝে মোদী এবারের প্রচারে ওই সব প্রসঙ্গ তোলা তো দূরের কথা আগের বারের ‘অচ্ছে দিন’ স্লোগানটাও তেমন ব্যবহার করেননি৷ উল্টে মজবুত সরকার আর জাতীয়তাবাদের দিকে প্রচারে জোর দিয়েছেন। পাশাপাশি বিরোধীরাও এই ব্যর্থতার দিকটা প্রচার করে ভোটারদের সেভাবে প্রভাবিত করতে পারেনি৷

বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, আগামী দিনে এই অর্থনীতির হাল আর কাজের সুযোগ নিয়ে ঠিকই জনগণ প্রশ্ন তুলবেই৷ শুধু এই ভাবে দেশপ্রেমের জিগির তুলে কত দিন ক্ষমতায় থাকতে পারবে এই সরকার সেটাই দেখার বলে মনে করেছেন তাঁরা৷