স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: শুধুমাত্র বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবে মানিকচকে চালু হচ্ছে না ব্লাড ষ্টোরেজ ইউনিট। এইজন্য নির্দিষ্ট ভবন নির্মাণের কাজও শেষ হয়েছে বেশ কয়েক মাস হল। ব্লাড ফ্রিজিং-এর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাদি বসানো হয়ে গিয়েছে৷ শুধুমাত্র হয়নি বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ৷

আর শুধুমাত্র সেই কারণেই মানিকচক হাসপাতালে শুরু করা যায়নি বিএসইউ-এর মত প্রয়োজনীয় ইউনিট৷ বহুদিন ধরেই মানিকচকবাসীর দাবি ছিল এইরকম ইউনিটের। মানিকচক হাসপাতলে ব্লাড স্টোরেজের ব্যবস্থা না থাকায় বহু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে রোগীদের। বিশেষ করে প্রসুতি মায়েদের ক্ষেত্রে। প্রসবের সময় প্রচন্ড রক্তক্ষরণ হলে রক্তের ব্যবস্থা না থাকায় ঢলে পড়তে হয়েছে মৃত্যুর কোলে৷

তাই বার বার প্রস্তাব রাখা হয়েছিল মানিকচক হাসপাতালে ব্লাড ষ্টোরেজ ইউনিট খোলার। নির্মাণ হয় ভবনও। এখনও চালু হয়নি সেই ব্লাড স্টোরেজ৷ শুধুমাত্র বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে প্রশাসনের এত ঢিলেমি কেন সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এলাকার মানুষজন৷ এ নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন সমাজসেবী বিভূতিভূষণ মন্ডল, বাপি সরকারেরা।

তাদের দাবি দুর্ঘটনাজনিত কারণে শুধুমাত্র রক্ত যোগানের ব্যবস্থা না থাকায় রক্ত না দিয়েই তড়িঘড়ি রোগীদের রেফার করা হয় মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। মানিকচক থেকে মালদার দূরত্ব প্রায় ৩৩ কিলোমিটার। অনেক সময় রাস্তাতেই মৃত্যু হয় রোগীদের।

প্রশাসনের কাছে তাদের আরও দাবি গ্রামীণ হাসপাতালগুলিকে ঢেলে সাজানোর৷ তবে এই এলাকার জেলা পরিষদ সদস্য তথা মালদহ জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌর চন্দ্র মন্ডল জানান বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে ইতিমধ্যেই কথা হয়ে গিয়েছে৷ খুব শীঘ্রই চালু হবে এই ইউনিট৷

শুধু বিদ্যুৎ সংযোগ নয় এই ইউনিটটি চালানোর জন্য কোনও কর্মীও নিয়োগ করা হয়নি বলে অভিযোগ৷ তবে মানিকচকের বিএমওএইচ হেম নারায়ণ ঝার দাবি, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চালু করা হবে ব্লাড স্টোরেজ ইউনিট। মালদহ ব্লাড ব্যাংক থেকে রক্ত নিয়ে এসে ফ্রীজিং ব্যবস্থার মাধ্যমে রক্ত স্টোর করে রাখা হবে। পরে প্রয়োজনীয় রোগীদের তা সরবরাহ করা হবে৷

তার আরও দাবি ইতিমধ্যেই প্রসূতিদের কথা মাথায় রেখেই মানিকচক হাসপাতালে ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে দুটি সুপার স্পেশালিটি বেড যা শুধু প্রসূতিদের জন্যই সংরক্ষিত। তবে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা হলেই মানিকচকবাসী পেতে চলেছেন ব্লাড ষ্টোরেজ ইউনিটের মত অত্যাধুনিক ব্যবস্থা।