জয়পুর: রোগীর পরিচয় তার রোগে নয়, জরুরি সেই ব্যক্তির ধর্ম পরিচয় ! এমনই কাণ্ডে বিতর্ক চরমে উঠল৷ বিজেপি শাসিত রাজ্য রাজস্থানের বিখ্যাত সোয়াই মানসিং হাসপাতাল এই বিতর্কের কেন্দ্রে৷ আরও অভিযোগ, ধর্মের মাধ্যমে রোগীদের শ্রেণি বিন্যাস করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ৷ কেউ যদি তাঁর ধর্ম পরিচয় জানাতে না চান, তাহলে তিনি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত হবেন৷

‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ ও ‘জনসত্তা’ গোষ্ঠীর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জয়পুরের হাসপাতালে রোগীর ধর্ম পরিচয় জানতে বিশেষ অ্যাপ চালু হয় গত প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন৷ সেই অ্যাপ ব্যবহার করলে রোগীর নাম-পদবীর পাশাপাশি ধর্ম পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন থাকছে৷ বলা হচ্ছে, কোনও রোগীর ধর্ম পরিচয়ে লুকিয়ে থাকে বিশেষ বিশেষ রোগ৷ অর্থাৎ কেউ যদি হিন্দু হন তাহলে তাঁর একরকম রোগাক্রান্ত হবেন, কেউ মুসলিম হলে তাঁরও বিশেষ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে৷ তেমনই আরও বিভিন্ন ধর্মের জন্য বিশেষ রোগের তালিকা আছে৷

সোয়াই মানসিং হাসপাতাল রাজস্থানের অন্যতম চিকিৎসা কেন্দ্র৷ রাজধানী শহর জয়পুরে এই হাসপাতাল আছে৷ অভিযোগ, হাসপাতালের ওপিডি বিভাগে নাম নথিভুক্ত করানোর সময় রোগীর নাম, পেশার সঙ্গে তাঁর ধর্ম পরিচয় জানতে চাওয়া হচ্ছে৷ জানা গিয়েছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই নথিভুক্ত করণ প্রক্রিয়া দ্রুত সমাধা করতে বিশেষ অ্যাপ চালু করে৷ যাতে লাইনে দাঁড়িয়ে অযথা ভোগান্তি না পোহাতে হয় কাউকে৷ এই অ্যাপ নিয়েই বিতর্ক৷ রোগীদের অনেকেই জানিয়েছেন, এই অ্যাপে ঢুকে নাম নথিভুক্ত করার সময় কে কোন ধর্মে বিশ্বাস করেন তাও বলতে হচ্ছে৷ রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রায় ২১৫৩টি রোগের নথিভুক্ত করণ সম্পন্ন৷ এরপরেও কাজ চলছে দ্রুত গতিতে৷

এদিকে রোগীর ধর্ম পরিচয় ঘিরে বিতর্কে জড়ানো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যুক্তি খাড়া করতে ব্যস্ত৷ হাসপাতাল সুপার ডা. ডিএস মিনা জানিয়েছেন, কিছু এমন রোগ থাকে তা বিশেষ কোনও ধর্মের মানুষের মধ্যেই দেখা যায়৷ আবার কিছু এমন রোগ থাকে যে কোনও বিশেষ ধর্মাবলম্বীর মধ্যে খুব মাত্রায় পাওয়া যায়৷ এসব খুঁটিনাটি বিষয় জানতেই রোগীর ধর্ম ভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে৷ তাঁর আরও যুক্তি, চিকিৎসা বিজ্ঞানে কোনও রোগীর ধর্ম পরিচয় জানা নিয়ম বিরুদ্ধ কাজ নয়৷