সোয়েতা ভট্টাচার্য,কলকাতা: “এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না আমি বেঁচে আছি। ধোঁয়ার তীব্রতা দেখে খুবই ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম আমি।’’ বুধবার সকালে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে এক রোগীর আত্মীয় রাখাল দে একথা জানান কলকাতা 24×7-কে।

বারাসাতের বাসিন্দা রাখাল দে-র বোন রেণুকা যাদব মঙ্গলবার হার্টের চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন এই হাসপাতালে। ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ নিজের বোনকে দেখতে হাসপাতালে পৌঁছন তিনি। যে বিল্ডিংয়ে আগুন লাগে তারই দোতলায় ভর্তি ছিলেন রাখাল দে-র বোন।

সারা দিনের ধকলের পর সন্ধ্যায় ওই বিল্ডিংয়ের সিঁড়িতে বসে সকালের ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি জানান, সেই সময় বোনের বেডের কাছাকাছিই ছিলেন তিনি। হঠাৎ পোড়া গন্ধ পান তিনি। তার পরেই চোখে পরে দোতলার জানালা দিয়ে হুহু করে ধোঁয়া ঢুকছে৷ ছুটে বোনের কাছে যান তিনি। বিপদের আশঙ্কা করেই বোনকে তড়িঘরি দোতলা থেকে লিফটের সাহায্যে বোনকে নামিয়ে আনেন তিনি। বোনকে এমারজেন্সিতে ঢুকিয়ে নিশ্চিন্ত হন তিনি।

ততক্ষণে রাখালবাবু বুঝে যান ঠিক কী ঘটেছে। বাকি রোগীদের বিপদের কথা ভেবে আবার সেই ওয়ার্ডে ছুটে যান তিনি। তিনি বলেন, ‘‘বোনকে নামানোর সময় অনেকেই সাহায্য চেয়ে হাত বাড়িছিলেন আমার দিকে। সেই মুখগুলো চোখের সামনে ভেসে ওঠে। আমি আবার দোতলায় ফিরে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি অনেক রোগী এখনও নামতে পারেননি। অনেকের আবার অক্সিজেনের মাস্ক ছিল মুখে। তখন একটাই কথা মনে এসেছিল, যেভাবেই হোক বাঁচাতে হবে ওঁদের। যত জনকে পেরেছি উপর নীচ করে নামিয়ে এনেছি। এক সময় বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ফলে লিফ্টের পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। সিঁড়ি দিয়েই নামিয়ে আনি অনেক রোগীকে।’’

 

এখনও পর্যন্ত ধাতস্ত হতে পারেননি বারাসাতের এই বাসিন্দা। প্রাণে বাঁচবেন কি না সে কথাও একবার মনে হয় তাঁর। তিনি বলেন, ‘‘একসময় মনে হল প্রাণ নিয়ে হয়তো আর বাড়ি ফেরা হবে না। আজ অনেক অচেনা মানুষ একে অপরের জন্য প্রাণের ভয় না করেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এই হাতগুলো এগিয়ে না এলে এই ঘটনার জেরে অনেক মানুষই প্রাণ হারাত। আমি নিজেই প্রায় ৩০ জন রোগীকে নামিয়ে আনি। তার পর আর শরীরে বল ছিল না। অথচ রোগীদের চিৎকার কানে বাজছিল। কিছু সময়ের জন্য নিচেই বসে থাকি।’’

এই ঘটনার জেরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে রোগীদের মধ্যে। কাছাকাছি যাদের বাড়ি তাঁদের মধেও অনেক রোগীর পরিজনেরা হাসপাতাল চত্বরেই রাত কাটাবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। এই ঘটনা আরও একবার শহরবাসীদের মনে আমরির স্মৃতি ফিরিয়ে আনল।