শংকর দাস, বালুরঘাট: ঢাকঢোল পিটিয়ে ই-মেডিক্যাল ভ্যান পরিষেবা চালু করা হল৷ কিন্তু চালকের অভাবে নির্দিষ্ট সময়ের পর আর পাওয়া যায় না এই পরিষেবা৷ মনে হচ্ছে তো এ আবার কী ধরণের ব্যবস্থা৷ অবাক হওয়ার কিছুই নেই, এমনটাই দিনের পর দিন হয়ে আসছে বালুরঘাটের সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে৷

সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৫ টার মধ্যে অসুস্থ হলে তাকে সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের দরজা অবধি পৌঁছে দেবে ব্যাটারি চালিত ই-মেডিক্যাল ভ্যান৷ এরপর কেউ অসুস্থ হলে তাকে ভোগ করতে হবে নরক যন্ত্রনা৷ বিকেল ৫ টার পর আর পাওয়া যাবে না ই-মেডিক্যাল ভ্যান পরিষেবা৷ তখন হয় কোলে করে অথবা পরিবারের নিজস্ব ব্যবস্থায় রোগীকে অন্য কোনোভাবে নিয়ে যেতে হবে হাসপাতালে৷ এমন পদ্ধতিই চালু রয়েছে বালুরঘাটে অবস্থিত জেলা হাসপাতালে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সপ্তাহ দু’য়েক আগে অবশেষে জেলা হাসপাতাল চত্বরে চালু হয়েছে ই-মেডিক্যাল ভ্যান। জেনে রাখা ভালো ইতিমধ্যেই তিন বার তা বিকলও হয়েছে। যথারীতি তা মেরামতি করে দেওয়া হলেও রোগীদের অনেকেই তার পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কারণ ব্যাটারি চালিত ই-মেডিক্যাল ভ্যান শুধু মাত্র সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৫ টা অবধি চালু থাকে। সেই সময়কালের পর এমার্জেন্সিতে অসুস্থ অসহায় কোন রোগী ভরতি হতে এলে তাকে চরম অসহায় অবস্থার মধ্যে সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে পৌঁছাতে হচ্ছে। মাতৃ যান বা ই-মেডিক্যাল ভ্যান না থাকায় দীর্ঘ প্রায় চারশো মিটার পথ ট্রলিতে বা পায়ে হাঁটিয়েই সুপারস্পেশালিটির ওয়ার্ডে তাঁদের নিয়ে যেতে বাধ্য হন পরিবার।

আরও পড়ুন : জেলায় নিষিদ্ধ গম চাষ! সংকটে চাষীরা

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বালুরঘাট পুরসভার তরফে রোগীদের সুবিধার্থে ই-মেডিক্যাল ভ্যান দেওয়া হলেও তার চালক মাত্র একজন। স্বাভাবিক নিয়মেই সকাল থেকে আট ঘণ্টা ডিউটি করার পর চালকের অভাবে গাড়িটি বন্ধ রাখা হয়। সুতরাং বিকেল পাঁচটার পর ভরতি রোগীদের আর ই-মেডিক্যাল ভ্যানের পরিসেবা কপালে জোটে না।

এই বিষয়ে হাসপাতালের সুপার ডাঃ তপন কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন, রোগীদের সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে পৌঁছে দিতেই ব্যাটারি চালিত গাড়ি চালু করা হয়েছে। তবে বিকেল পাঁচটার পর চালক না থাকায় গাড়িটি বন্ধ থাকে। আরও একজন চালক নিয়োগের বিষয়ে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের সঙ্গে কথাও বলেছেন। তবে ই-মেডিক্যাল ভ্যান বন্ধ থাকাকালীন রোগীদের কাউকে পায়ে হেঁটে সুপারস্পেশালিটির ওয়ার্ডে পৌঁছাতে হচ্ছে সেই অভিযোগ তিনি ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প