স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: চিকিৎসার গাফিলতিতে রোগীর মৃত্যু৷ শুধু তাই নয় নষ্ট হয়েছে তার গর্ভস্থ সন্তান৷ ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে৷ অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ৷

আরও পড়ুন- আত্মরক্ষায় সবরকমের অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে পাকিস্তান: পাক আর্মি

হাসপাতাল সূত্রে খবর, গত শনিবার বিকাল ৫টা নাগাদ বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভরতি হন আসানসোল রামনগরের বাসিন্দারুকসোনা খাতুন (৩৪)। চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা রুকসোনা বুকে ব্যাথা নিয়ে ভরতি হন৷ হাসপাতালের রাধারাণি ওয়ার্ডে রেখে প্রথমে তার চিকিৎসা শুরু হয়৷ রবিবার সকাল ৮টা নাগাদ তাঁর গর্ভস্থ সন্তান নষ্ট হয়ে যায়৷ এরপর তাঁকে হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়৷ সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছিল।

আরও পড়ুন- জলপাইগুড়িতে নির্বাচন দফতরের সচেতনতা শিবির

পরিবারের অভিযোগ, তাদের না জানিয়ে হঠাৎ গাইনি ওয়ার্ড থেকে রুকসোনাকে ফের রাধারাণি ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। সেখানেই সেদিন সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ মারা যায়। মৃতার মা ফিরোজা মনসুরি জানান, মেয়ে বুকে ব্যাথা নিয়ে হাসপাতালে ভরতি হয়। মেয়ের শারীরিক অবস্থা তেমন খারাপ ছিলনা। চিকিৎসায় গাফিলতিতে মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়ার পর হাসপাতালের চিকিৎসক ৪ ঘন্টা পর মৃতদেহ ছাড়া হবে বলে জানান।

কিন্তু, রবিবারের পর সোমবার সকাল হয়ে গেলেও দেহ ছাড়া হয়নি। ঘটনার কথা লিখিতভাবে হাসপাতালের সুপারকে জানিয়েছেন মৃতার মা। তাঁর অভিযোগ, মেয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিলনা। চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত দাবি করেছেন তিনি।

হাসপাতালের ডেপুটি সুপার ডাঃ অমিতাভ সাহা জানান, ওই মহিলা রোগী যখন আমাদের হাসপাতালে ভরতি হন তখন তার শারীরিক অবস্থা মোটেই ভালো ছিলনা। একে তো চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা তার উপর বুকে ব্যাথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভরতি হন৷ চিকিৎসায় কোনও রকম গাফিলতি ছিলনা। মহিলার গর্ভস্থ সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। তবে স্বীকার করে নেন ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা দেরী হয়েছে আমাদের। মেডিসিন বিভাগ, না গাইনি বিভাগ,কোন বিভাগ থেকে মৃতার ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া হবে সেই সিদ্ধান্ত নিতে একটু সময় লেগেছে৷ তবে অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মৃত রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখে কমিটি রিপোর্ট দেবে। তার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।