শ্রীরূপা পত্রনবিশ : ১৮ বছরের সোনু কুমার যাদবের বাড়ি হাওয়ার সালকিয়া। ২০০৭ সালে সোনুর বয়স যখন সাত বছর, তখন খেলতে গিয়ে শিরদাঁড়ায় আঘাত লেগেছিল। আনা হয় বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্স-এ। তার শিরদাঁড়ায় বিরল রোগ ধরা পড়ে। অস্ত্রোপচারও হয়। কিন্তু তারপর দেখা যায়, শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখার স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তারপর থেকে সোনুর ঠিকানা ITU-এর এই ঘরটা….এই বেডটাই তার পৃথিবী। কারণ, চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছেন, ভেন্টিলেটর থেকে সোনুকে আর কখনও বের করা যাবে না। সোনুও জানে নির্মম এই সত্যটা। তাই ‘হাসপাতালের বেডে সাবালক হওয়াটা’কে সে মেনে নিয়েছে নিজের মতো করে। একেবারে বেডে শুয়ে সোনু জানিয়েছে, কার্টুন দেখায় স্বাস্থ্যকর্মীরা। টম অ্যান্ড জেরি, ছোটা ভিম। সলমন খান ভাল লাগে। ভাল লাগে বাড়ি যেতে, কিন্তু তার নিজের প্রশ্ন- যাব কী করে?

পড়ুন: সাইক্লোনের প্রভাব! রাতভর বৃষ্টিতে ভিজল শহর কলকাতা

১১ বছর ভেন্টিলেশনে থাকলেও, সোনুর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। শুয়ে শুয়েই সে কথা বলে পাশের বেডের রোগীর সঙ্গে। রোগই তাকে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের স্বজন করে তুলেছে। আইটিইউ-এর প্রধান অনিতা পাহাড়ি বলেন,’ আমাদের সঙ্গে সোনু গল্প করে..জেনারেল ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়ার কথা বললে মুষড়ে পড়ে..কারণ আমরা যেরকম কেয়ার নিই..মিষ্টি আনলে ওকে আগে দিই’। যে ছেলেটাকে হাসপাতালের বিছানায় এক দশক বেড়ে উঠতে দেখেছেন, তার দিকে ২৪ ঘণ্টা নজর রাখেন চিকিৎসকরা। কারণ, একটু অসতর্ক হলেই নেমে আসতে পারে বিপদ!

পড়ুন: চলছে ‘লন্ডন বানানোর কাজ’, পাশেই বেহাল রাস্তা

হাসপাতালের সবাই তাকে আপন করে নিয়েছে। কিন্তু মাঝেমধ্যেই বাড়ি ফেরার জন্য বায়না ধরে সোনু। আজও সে মিস করে মায়ের কোলটা…কিন্তু সোনুর সেই স্বপ্নপূরণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তার পরিবারের আর্থিক সঙ্গতি…..তাঁদের ভেন্টিলেটর কেনার ক্ষমতা নেই। অথচ ছেলেটাকে বাঁচিয়ে রাখতে গেলে ভেন্টিলেটর চাইই-চাই….সেই খোঁজেই এতগুলো বছর অপেক্ষা করছে সালকিয়ার সোনু….৷

এখন শুধু সোনু নয়, পরিবার, স্বাস্থ্যকর্মীরা অপেক্ষায় যে কবে একজন তাকে ভেন্টিলেটর দান করবেন……