স্টাফ রিপোর্টার, বালুরঘাট: স্টেশনের আধুনিকীকরণ ও ট্রেন পরিষেবার উন্নতি না হওয়ায় এবার অনশন আন্দোলনে নামলেন যাত্রীরা। রবিবার গঙ্গারামপুর রেল উন্নয়ন কমিটির ডাকে এলাকার মানুষ পালা করে স্টেশন চত্বরে অনশন আন্দোলন করেন।

অনশনকারীদের দাবি, অবিলম্বে গঙ্গারামপুর স্টেশনকে বি-ক্যাটেগরি স্টেশনে উন্নীত করতে হবে। সেই সঙ্গে মালদহ-বালুরঘাট লাইনে চলাচলকারী সমস্ত ট্রেনের স্টপেজ সহ অন্যান্য যাত্রী পরিষেবা প্রদানেরও দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগ, এই ব্যাপারে ২০০৪ সাল থেকে রেল মন্ত্রকের কাছে দাবি জানিয়েও এখনও পর্যন্ত তা পূরণ করা হয়নি। ফলে চরম অব্যবস্থার মধ্যে প্রাণ হাতে নিয়ে গঙ্গারামপুর স্টেশন থেকে যাত্রী সাধারণকে যাতায়াত করতে হয়।

প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় রেল মানচিত্রে জায়গা পেয়েছিল দক্ষিণ দিনাজপুর। স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৭ বছর পর একলাখি থেকে বালুরঘাট পর্যন্ত রেল পরিষেবা চালু হয়। অন্যদিকে, জেলার সদর শহর বালুরঘাট থেকে কলকাতা পর্যন্ত সপ্তাহে ৭ দিন গৌড় লিংক ট্রেন চালু করা হয়। সেই সময় গঙ্গারামপুর স্টেশনকে হল্ট স্টেশন হিসেবে ঘোষণা করেছিল রেল। পরবর্তীতে এই স্টেশনের কোনও রূপ উন্নয়ন না হওয়ায় চরম অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্ল্যাটফর্ম খুবই নিচু হওয়ায় তাড়াহুড়োয় ওঠা নামা করতে গিয়ে বহু মানুষ জখম হয়েছেন। এদিকে, দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে গঙ্গারামপুরে কম্পিউটারাইজড অগ্রিম টিকিট কাউন্টার চালু হলেও প্ল্যাটফর্ম ও অন্যান্য পরিষেবার কোনও উন্নতি হয়নি৷ আর সেই কারণেই এবার আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন বাসিন্দারা। গঙ্গারামপুর রেল উন্নয়ন কমিটির ডাকে রবিবার স্টেশনে অনশন আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। তাতে সাড়া দিয়ে ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, আইনজীবী ও সাধারণ মানুষ সকলেই স্টেশনে হাজির হয়ে অনশন আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।

এই প্রসঙ্গে গঙ্গারামপুর রেল উন্নয়ন কমিটির সম্পাদক অজয় কুমার দাস বলেছেন, ‘‘যতক্ষণ পর্যন্ত না দাবি মতো গঙ্গারামপুর স্টেশনকে বি-ক্যাটাগরি স্টেশনে উন্নীত করার কথা ঘোষণা করছে রেল, তত দিন পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। রবিবার একদিনের অনশন আন্দোলনের পর আরও নানান কর্মসূচি রয়েছে।’’ গঙ্গারামপুর স্টেশন তথা রেল পরিষেবার উন্নতির দাবিতে প্রয়োজনে রেলের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা ও ট্রেন অবরোধ করতেও পিছুপা হবেন না বলে রেল উন্নয়নের সম্পাদক জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদের সদস্য প্রাক্তন বিধায়ক বিপ্লব মিত্র এদিন আন্দোলনে অংশ নেন৷ তিনি জানিয়েছেন, তিনিই প্রথম ইউপিএ সরকারের আমলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়েছিলেন যে দক্ষিণ দিনাজপুরে কোনও রেল পরিষেবা নেই। তার পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেল মন্ত্রকের দায়িত্ব নিয়ে প্রথম প্রকল্প হিসেবে একলাখি থেকে বালুরঘাট অবধি রেল পরিষেবার কথা ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেলে গঙ্গারামপুর স্টেশনের হাল যেই কে সেই অবস্থায় রয়েছে। এই স্টেশন থেকে প্রতিদিন হাজারেরও বেশি মানুষ ট্রেনে চেপে যাতায়াত করে থাকেন। অবিলম্বে এই স্টেশনের উন্নয়ন খুবই জরুরি বলে তিনি দাবি করেন।