তমলুক: সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে জেলার দুই আসনে জয় এলেও কপালে চিন্তার ভাঁজ ধরিয়েছে বিজেপি। ফলাফলে খুবই স্পষ্ট যে বেশ ভালো গতিতেই উত্থান ঘটছে পদ্মের। এই অবস্থায় দলীয় কর্মীদের নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করলেন তৃণোমূলের দাপুটে নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

লোকসভা ভোটে রাজ্যের অনেক কেন্দ্রে তৃণমূলের ভরাডুবি হলেও পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক ও কাঁথি লোকসভা আসনে জয়লাভ করেছে প্রার্থীরা। গতবারের চেয়ে ভোটের ব্যবধান অনেকটাই কমেছে তৃণমূলের। এমনকী ভোট প্রাপ্তির নিরিখেও জেলার বেশ কিছু গ্রাম পঞ্চায়েত ও পুরসভার ওয়ার্ডে বিজেপির চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে শাসকদল।

এই পরিস্থিতিতে লোকসভা ভোটের ফল পর্যালোচনা ও পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে বৈঠক ডেকেছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। শুক্রবার তমলুক শহরের সুবর্ণজয়ন্তী ভবনে এই বৈঠকে জেলায় দলের সমস্ত ব্লক, অঞ্চল সভাপতি ও বিভিন্ন শাখা সংগঠনের পদাধিকারী, পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদের পদাধিকারী ও বিধায়কদের ডাকা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর।

এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা কাঁথির সাংসদ শিশির অধিকারী, রাজ্যের পরিবহন ও সেচমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, তমলুকের সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারী, সাংসদ মানস রঞ্জন ভূঞা, জেলার সভাধিপতি দেবব্রত দাস প্রমুখ। এদিন পর্যালোচনা সভায় জেলা তৃণমূল সভাপতি ও সাংসদ শিশির অধিকারী বলেন, “২০০৬ সাল থেকে আমি এই জেলায় দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি।লোকসভা ভোটে দলের পক্ষে-বিপক্ষে কে কি করেছে সেটা আমরা জানি। কিন্তু তাদেরকে অভিনন্দন জানাই।” তিনি আরও বলেন, “এখনও তৃণমূলের প্রতি সাধারণ মানুষের পুরোপুরি আস্থা রয়েছে।সেই আস্থাকে আমাদের ধরে রাখতে হবে।মানুষের কাছে আমাদের গ্রহনযোগ্যতা বাড়াতে হবে।সবাইকে নিয়েই দলের স্বার্থে কাজ করতে হবে।”

সভায় রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক তথা পরিবহণ ও সেচমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ১৬টি বিধানসভার মধ্যে ১৪টি বিধানসভায় তৃণমূল লিড পেয়েছে। বাকি এগরা ও পাঁশকুড়া পশ্চিম বিধানসভা তৃণমূলের ভরাডুবি হয়েছে। তাই এবার আমাদের সংগঠনকে মজবুত করতে হবে। আমাদের নজরে আছে কে কি করছে না করছে। আমি রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক রয়েছি। আমি মনে করলে যারা দলবিরোধী কাজ করবে তাদের দল থেকে বার করে যুব, ব্লক সভাপতিদের দলের স্বার্থে সবাইয়ের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে।আমি নিজে এগরা ও পাঁশকুড়া পশ্চিম বিধানসভাটা দেখব।”

আগামী ২১ জুন পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় নন্দীগ্রাম থেকে পাঁচ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে ‘জনসংযোগ যাত্রা’র সূচনা করবেন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে তৃণমূলকে কটাক্ষ করে জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক নবারুণ নায়ক বলেন, “এসব করে তৃণমূলের কোন লাভ হবে না।মানুষ বুঝে গিয়েছে।আগামী ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে তৃণমূল ধরাশায়ী হবে।রাজ্যের মানুষ বিজেপি ক্ষমতায় আসার অপেক্ষায় দিন গুনছে।”