দেবযানী সরকার, কলকাতা: শুক্রবার বিকেল চারটের সময় কংগ্রেস যোগ দেওয়ার কথা একসময়ের সিপিএমের দোর্দন্ডপ্রতাপ নেতা লক্ষণ শেঠের৷ কিন্তু এদিন সকাল থেকে বেঁকে বসেছেন আব্দুল মান্নানরা৷ সূত্রের খবর, মান্নান গোষ্ঠী চাইছে না লক্ষণ শেঠকে দলে নিতে৷ লক্ষন শেঠকে আটকাতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্রর উপর চাপ বাড়াচ্ছে৷ এমনও জানা যাচ্ছে, লক্ষণ শেঠকে দলে নিলে কংগ্রেস ছাড়াও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মান্নান সাহেব৷ এদিন লক্ষণ শেঠের যোগদান ঘিরে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে৷

২০১৪ সালে সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ২০১৬-তে বিজেপিতে যোগ দেন একসময় পূর্ব মেদিনীপুরের শেষ কথা লক্ষণ শেঠ। বিজেপিতে সেভাবে জায়গা না পেয়ে ২০১৮-তে দল ছেড়ে দেন। তারপর তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু নন্দীগ্রাম আন্দোলনে যাঁর বিরুদ্ধে লড়াই করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-শুভেন্দু অধিকারীরা পায়ের তলায় জমি পেয়েছেন, তাঁকে দলে নিতে চায়নি তৃণমূল। অগত্যা, নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষা করতে কংগ্রেসের ছাতার তলায় আসার চেষ্টা শুরু করেন তিনি।

জানা যায়, সোমেন মিত্র প্রদেশ কংগ্রেস হওয়ার ক’দিন পরেই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে ছুটে গিয়েছিলেন লক্ষণ শেঠ। তারপর থেকে বেশ কয়েকধাপ কথাবার্তা শুরু হয়েছিল দুই পক্ষের মধ্যে। লক্ষণ শেঠ নিজেও সে কথা স্বীকার করে ছিলেন। কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলে ছিলেন, কথা হয়েছে। তবে এখনও কিছু চূড়ান্ত হয়নি। যা জানা যাচ্ছে, অনেক আগেই লক্ষণ শেঠের কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার কথা ছিল৷ কিন্তু আব্দুল মান্নানদের বাধায় সেটা বিলম্বিত হয়৷ গত বুধবার নিজেদের মধ্যে বৈঠকে বসেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতারা। সেখানেই লক্ষ্মণ শেঠের দলে যোগদানের সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত শিলমোহর দেওয়া হয়।

কিন্তু এদিন সকালে মান্নান গোষ্ঠী ফের বেঁকে বসে বলে খবর৷ দু-এক ঘন্টা পর যখন বিধানভবনে আসার কথা লক্ষণ শেঠের তার আগে দলের একাংশের এই বিরোধীতায় অস্বস্তি বেড়েছে প্রদেশ নেতৃত্বের৷ বিধানভবন সূত্রে খবর, সভাপতি সোমেন মিত্র ও পশ্চিমবঙ্গের এআইসিসির পর্যবেক্ষক গৌরব গগৈ তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন৷ গৌরব এদিন দুপুরেই কলকাতায় এসেছেন৷

এই পরিস্থিতিতে এদিন লক্ষণ শেঠের কংগ্রেসের যোগদান নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে৷ এব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানার জন্য আব্দুল মান্নানকে ফোন করা হয়েছিল৷ কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি৷ তবে লক্ষণ শেঠ জানিয়েছেন, যোগদান বাতিল হওয়ার ব্যাপারে তাঁকে বিধানভবন থেকে কিছু জানানো হয়নি৷ প্রদেশ সভাপতির সঙ্গে আগাম কথা অনুযায়ী তিনি বিকেল চারটের সময় বিধানভবনে যাবেন৷