সিয়াং: খোঁজ মিলল AN-32-র ধ্বংসাবশেষের। দিন কয়েক আগে হারিয়ে গিয়েছিল বায়ুসেনার এই চপার। ১৩ জনকে নিয়ে হারিয়ে যায় চপারটি। মঙ্গলবার সেই চপারের খোঁজ মিলেছে।

এদিন অরুণাচল প্রদেশের কাছে পাওয়া গিয়েছে কিছু ধ্বংসাবশেষ। সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, এই ধ্বংসাবশেষ AN-32 হেলিকপ্টারের বলেই প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। যদিও এখনও চলছে সেই ধ্বংসাবশেষ মিলিয়ে দেখার কাজ।

গত ৩ জুন অসমের জোরহাট থেকে ওড়ার পর মাঝ আকাশেই নিখোঁজ হয়ে যায়। গত আটদিন ধরে চলছিল খোঁজ। দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হলেও, সেই চপার কোথায় গিয়ে পড়েছে, সেটাই বোঝা যাচ্ছিল না। এমনকি ইসরোর স্যাটেলাইট ব্যবহার করেও চলছিল খোঁজ।

অরুণাচলের সিয়াং জেলার পায়ুম সার্কেলের কাছে ওই এয়ারক্রাফটের ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে।এয়ার ফোর্সের Mi-17 চপার থেকেই প্রথম পড়ে থাকা ওই অংশগুলি দেখা গিয়েছে। প্রথম থেকে খোঁজ চালাচ্ছিল সুখোই Su-30 ও C-130J বিমান।

আর্মি, নেভি ও আইটিবিপি যৌথভাবে এই অনুসন্ধান চালাচ্ছিল। রাতেও নাইট-টাইম সেন্সর ব্যবহার করে চলেছে সার্চ অপারেশন। খারাপ আবহাওয়া থাকা সত্বেও অনবরত চলছিল খোঁজ। ১৩জনের পরিবার আপেক্ষায় আর উৎকন্ঠায় রাত কাটাচ্ছিলেন। তামিলনাড়ু থেকে নিয়ে যাওয়া হয় Mi-17, P8i ও একটি ALH হেলিকপ্টার।

অসমের জোরহাট থেকে অরুণাচল প্রদেশের মেচুকা উপত্যকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল বিমানটি। কিন্তু বায়ুসেনার বিমানটি ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়।

নিখোঁজ বিমানের কোনও রকমের সন্ধান দিতে পারলেই পুরস্কার হিসাবে বায়ুসেনার তরফে ৫ লক্ষ টাকার কথাও ঘোষণা করা হয়। এই এয়ারক্রাফ্ট কোন পথেযেতে পারে, বা তা ঘিরে কী কী হতে পারে, সেই নিয়েই তদন্ত শুরু করে সেনা।

দুই ইঞ্জিনের এই এএন-৩২ বিমান রুশ প্রযুক্তিতে তৈরি। গত চার দশক ধরে ওই বিমান ব্যবহার করছে ভারতীয় বায়ুসেনা।

এএন-৩২ বিমানের এভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। গত তিন বছর আগে আন্দামানের পোর্ট ব্লেয়ার যাওয়ার পথে ২৯ জন যাত্রী নিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল আরও একটি এএন-৩২ বিমান। যার খোঁজও আজও মেলেনি। ঠিক সেভাবে এবার চিন সীমান্তের কাছে নিখোঁজ বায়ুসেনার এই অত্যাধুনিক বিমানটি।

বিষয়টিতে নজর দিয়েছিলেন নয়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-ও। নিখোঁজ বিমানটির খোঁজে তল্লাশি শুরু হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বায়ুসেনার ভাইস এয়ার মার্শাল রাকেশ সিংহ ভাদুরিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন তিনি। ট্যুইটারেও রাজনাথ লেখেন, ‘নিখোঁজ এ-৩২ বিমান নিয়ে ভাইস এয়ার মার্শাল রাকেশ সিংহ ভাদুরিয়ার সঙ্গে কথা হয়েছে।’ এরপর আরও ত্বরান্বিত হয় অনুসন্ধানের কাজ।