স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে সন্তুষ্ট নন উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আন্দোলকারী শিক্ষক, শিক্ষিকারা৷ বেতন কাঠামো বৃদ্ধির দাবিতে সরকার সাড়া দেয়নি বলেই মনে করছেন আন্দোলনকারীরা৷ বদলির বিষয়টিও বিবেচনাধান৷ বৈঠকের নির্যাস নিয়ে অনশন মঞ্চে আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে জানা গিয়েছে৷

অষ্টম দিনের মাথায় শনিবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলতে ডেকে পাঠানো হয়৷ বেতন বৃদ্ধি ও ১৪ জন শিক্ষকের বদলির বিরুদ্ধে সরব প্রথমিক শিক্ষকদের এই সংগঠনটি৷ সেই দাবিই এদিন ফের পেশ করা হবে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে৷ জানিয়েছেন বৈঠকে যোগদানকারী আন্দোলনকারী শিক্ষকদের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা৷

অন্য রাজ্যের সঙ্গে ন্যায্য বেতনক্রমের দাবি ও বদলির প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। শনিবার অষ্টম দিনে পড়ল প্রাথমিক শিক্ষকদের আমরণ অনশন। আন্দোলনকারী শিক্ষকদের দাবি, অন্যান্য রাজ্যে ৯৩০০ থেকে ৩৪,৮০০ টাকা বেতন পান প্রাথমিক শিক্ষকরা। অথচ বাংলায় বেতনের হার ৫,৪০০ থেকে ২৫,২০০ টাকা। তাঁদের দাবি বেতন বৃদ্ধি নয়, সমহারে বেতনের দাবি জানাচ্ছেন তাঁরা৷

এছাড়াও অনশনকারীদের অভিযোগ, অতিসম্প্রতি ১৪ জন শিক্ষককে বাড়ি থেকে অনেক দূরে বদলি করা হয়েছে। এর ফলে যাতায়াতে সহ নানান অসুবিধার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাঁদের। ফলে অবিলম্বে বদলির নির্দেশিকা প্রত্যাহার করতে হবে।

গত শনিবার থেকে সল্টলেকের বিকাশ ভবনের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেছেন উস্থি প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা। গত কয়েকদিনে শিক্ষামন্ত্রীকে বারবার অনশনের কথা জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। উলটে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় অবশ্য বার্তা ছিল, ‘আগে প্রাথমিক শিক্ষকরা কাজে যোগ দিন। ২১ জুলাইয়ের পর সরকার আলোচনায় বসবে।’ একইসঙ্গে ছুটি না নিয়ে এসে আন্দোলন করলে বেতন কাটার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী৷

আন্দোলনকারীদের প্রতি রাজ্যের এই আচরণকে কটাক্ষ করা হয় বিরোধী দলগুলির তরফে৷ সমালোচনা করেন খোদ বিধাননগরের সদ্য প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্ত৷ গত বৃহস্পতিবারই বিকাশ ভবনের বাইরে অনশনকারীদের সঙ্গে দেখা করেন সব্যসাচীবাবু৷ তিনি জানিয়েছিলেন সরকারি চাপেই সেখানে এতদিন যেতে পারেননি তিনি৷ শনিবার দুপুরে অনশনকারীদের সঙ্গে দেখা করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷ এই পরিণতির জন্য রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি৷ ফলে মমতা সরকারের উপর ক্রমশ চাপ তৈরি হচ্ছিল৷ যা রাজ্য সরকার সম্পর্কে ভুল বার্তা বলে মনে করছে নবান্ন৷ ফলে ড্যামেজ কন্ট্রোলে ২১ জুলাইয়ের আগেই তড়িঘড়ি বৈঠকের ডাক শিক্ষামন্ত্রীর৷